রাজধানীর দনিয়ায় ব্রাইট স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবিকুন নাহার নামের দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। ফলে এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল থেকে ব্রাইট স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করছে শিক্ষার্থীরা।
স্কুল কর্তৃপক্ষের ‘চাপ ও দুর্ব্যবহারের কারণে’ সাবিকুন নাহার আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ করেছে তারা।
জানা যায়, বুধবার স্কুল শেষে ওই কিশোরী বাড়ি ফিরে আত্মহত্যা করলে সেই খবরে তার সহপাঠীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। পরে আজ সকাল থেকে স্কুল ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শুরু করে তারা।
কদমতলী থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
ওসি বলেন, দুপুরেও তাদের বিক্ষোভ চলছিল। তারা অভিযোগ করছে, তাদের সহপাঠী সাবিকুন নাহার স্কুলের চাপ ও দুর্ব্যবহারের কারণে আত্মহত্যা করছে।
দশম শ্রেণির মানবিক বিভাগের এক ছাত্রী বলেন, বুধবার তাদের বাংলা ও অর্থনীতি বিষয়ের মডেল টেস্ট ছিল। সাবিকুনের অর্থনীতি পরীক্ষার প্রিপারেশন হয়ত ভালো ছিল না, সে পরীক্ষায় চুপচাপ বসে ছিল। এক পর্যায়ে সে খাতায় কিছু একটা আঁকা শুরু করে। সেটা দেখতে পেয়ে ইকোনোমিকস মিস ওর খাতাটা নিয়ে স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা মাসুদ হাসান লিটনের কাছে পাঠান। তিনি অনেকটা সময় ধরে সাবিকুনকে বকাঝকা ও তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন।
এক পর্যায়ে সাবিকুনের অভিভাবককে ডেকেও গালাগাল ও দুর্ব্যবহার করা হয় জানিয়ে ওই সহপাঠী বলেন, তার কারণেই সাবিকুন আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। আমরা লিটনের শাস্তি চাই।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আরেক ছাত্র বলেন, ‘চেয়ারম্যান লিটন মেয়েদের টিজ (উত্ত্যক্ত) করেন। তার কথামতো না চললে কারণে অকারণে ডেকে নিয়ে বকাঝকা ও গালিগালাজ করেন। টিসি দিয়ে দেওয়ার ভয় দেখান। আমরা লিটনের এ অত্যাচার আর মানবো না। তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
এদিকে দুপুরের দিকে ব্রাইট গ্রুপের চেয়ারম্যান মাসুদ হাসান লিটন এবং অধ্যক্ষ মো. মাইদুর রহমান জেমকে স্কুল ক্যাম্পাসে অবরুদ্ধ করে শিক্ষার্থীরা।