বরগুনায় ডিসি কার্যালয় থেকে সাংবাদিকদের মাসিক রিপোর্ট চাওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন

বরগুনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে গণমাধ্যমকর্মীদের জেলার বিভিন্ন সমস্যা, অসঙ্গতি, উন্নয়ন ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রতি মাসে লিখিত প্রস্তাবনা বা রিপোর্ট পাঠানোর আহ্বান জানিয়ে জারি করা দুটি চিঠি সাংবাদিক মহলে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

সাংবাদিকদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন, জেলা প্রশাসকের কাছে নিয়মিত মাসিক রিপোর্ট প্রদান সাংবাদিকদের জন্য কতটা বাধ্যতামূলক এবং এর আইনগত ভিত্তি কী।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে জারি করা প্রথম চিঠিতে জেলার সার্বিক উন্নয়ন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সমস্যা ও অসঙ্গতি চিহ্নিত করে জেলা প্রশাসকের কাছে উপস্থাপনের জন্য কর্মরত সকল গণমাধ্যমকর্মীকে অনুরোধ জানানো হয়।

বরগুনায় ডিসি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মাসিক রিপোর্ট চাওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে

পরবর্তীতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে আরও একটি চিঠি জারি করা হয়। তাতে বিষয়টির ব্যাখ্যা করে বলা হয়, গত ২৩ মে জেলা তথ্য অফিস আয়োজিত নির্বাচনী ইশতেহারবিষয়ক এক প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট দিনে জেলার উন্নয়ন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে লিখিত প্রস্তাবনা জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। সেই প্রস্তাবের ভিত্তিতেই গণমাধ্যমকর্মীদের অবহিত করা হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

বরগুনায় ডিসি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মাসিক রিপোর্ট চাওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন

চিঠিতে আরও বলা হয়, একজন গণমাধ্যমকর্মী মানবাধিকার, পরিবেশ ও স্থানীয় উন্নয়নের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। স্থানীয় সমস্যা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে তাদের পর্যবেক্ষণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক হতে পারে।

তবে সাংবাদিকদের একটি অংশের মতে, এটি যদি কেবল স্বেচ্ছাভিত্তিক মতামত বা পরামর্শ গ্রহণের উদ্যোগ হয়ে থাকে, তাহলে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা উচিত ছিল। তাদের দাবি, সরকারি চিঠিতে ‘মাসিক রিপোর্ট’ শব্দ ব্যবহারে অনেকের কাছে বিষয়টি বাধ্যবাধকতার ইঙ্গিত হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে।

সাংবাদিক নেতারা মনে করছেন, বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন, যাতে কোনো বিভ্রান্তির সৃষ্টি না হয়। নিয়মিত মাসিক রিপোর্ট প্রদান করা সাংবাদিকদের জন্য কতটা বাধ্যতামূলক এবং এর আইনগত ভিত্তি আছে কিনা এ নিয়ে বিব্রত বোধ করছেন তারা। একই সঙ্গে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকদের পেশাগত দায়বদ্ধতার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত বলে তারা জানান।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় জানিয়েছে, প্রথম চিঠিতে ভাষাগত ত্রুটি থাকায় পরে সংশোধিত আকারে দ্বিতীয় চিঠি জারি করা হয়েছে।