পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ ফাটল তৈরির পর এখন বিজেপির নজর চলে গেছে কেন্দ্রীয় সংসদের দিকে। লোকসভা ও রাজ্যসভায় তৃণমূলের সদস্যদের যত দ্রুত সম্ভব সরকার-সমর্থক করে তোলার কৌশল নিয়ে বিজেপির শীর্ষ নেতারা এখন সক্রিয় চিন্তাভাবনা করছেন।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
বিজেপির মূল লক্ষ্য সরকার বাঁচানো নয়, বরং সংসদের দুই কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করা। এতে সাংবিধানিক সংশোধনী বিলগুলো সহজেই পাস করানো যাবে এবং মহিলা সংরক্ষণ বিলের মতো পরাজয়ের লজ্জায় আর পড়তে হবে না।
বর্তমানে লোকসভায় তৃণমূলের সদস্য সংখ্যা ২৮ এবং রাজ্যসভায় ১৩। শুধু তৃণমূল নয়, তামিলনাড়ুর ডিএমকের ২২ জন লোকসভা সদস্যের দিকেও বিজেপির নজর রয়েছে। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য এনডিএকে লোকসভায় অন্তত ৩৬২ জনের সমর্থন দরকার। মহিলা সংরক্ষণ বিল হারার পেছনে এনডিএর ৭০টি ভোটের ঘাটতি ছিল। তৃণমূল ও ডিএমকেতে ভাঙন ধরাতে পারলে এই ঘাটতি অনেকাংশে পূরণ হয়ে যাবে।
বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধাক্কার পর তৃণমূল কংগ্রেসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রভাব দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। এক মাসেরও কম সময়ে দলের পরিষদীয় দলে এত বড় ফাটল ধরবে, তা অনেকেই ভাবতে পারেননি। বিজেপি এতে বেশ উৎফুল্ল। তাদের কাছে এটা বড় সুবিধা যে, পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের কোনো চাপ নেই।
বিজেপির সন্তুষ্টির প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করে ফেলা, তৃণমূল কংগ্রেসকে দুর্নীতিগ্রস্ত দল হিসেবে প্রমাণ করা, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসা এবং তৃণমূল পরিষদীয় দলে ভাঙন ঘটিয়ে একটি অনুগত বিরোধী গোষ্ঠী তৈরি করা।
বিজেপি চায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে নতুন গোষ্ঠীকে সরকারি বিরোধী হিসেবে ব্যবহার করতে। অর্থাৎ সরকারও তাদের নিয়ন্ত্রণে, বিরোধী পক্ষও তাদের নিয়ন্ত্রণে।
যদিও রাজ্যে সরকার গঠনের তাগিদ নেই, কেন্দ্রে বিজেপি সংসদীয় দলেও একই ধরনের বিভাজন চায়। লোকসভা নির্বাচনের এখনো তিন বছর বাকি। তার আগেই এক দেশ এক ভোট এবং নতুন আঙ্গিকে মহিলা সংরক্ষণ বিল আনতে চায় তারা। সাংবিধানিক সংশোধনীর জন্য দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা জরুরি। তৃণমূল ও ডিএমকেতে ভাঙন ধরিয়ে সেই সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথ সুগম করতে চাইছে বিজেপি।
তৃণমূল সংসদীয় দলে ভাঙনের নেতৃত্ব কে দেবেন, তা এখনো পরিষ্কার নয়। তবে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কাকলি ঘোষ দস্তিদার ইতিমধ্যেই বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। কয়েকজন সংসদ সদস্য কংগ্রেসের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছেন। তবে ইন্ডিয়া জোটের স্বার্থে কংগ্রেস এখনই এই দলত্যাগীদের উৎসাহ দিতে চাইছে না।
এই ভাঙন ইন্ডিয়া জোটকেও দুর্বল করবে, যা বিজেপির জন্য অতিরিক্ত সুবিধা। মমতা এখন জোটকে আঁকড়ে ধরতে চাইলেও স্ট্যালিনের আগ্রহ কম। ৮ জুনের বৈঠকে তিনি না-ও আসতে পারেন। বিজেপি এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে স্ট্যালিনের কাছাকাছি আসার চেষ্টা করছে।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে