মৌলভীবাজারের বড়লেখায় সালিশ-বৈঠকে বক্তব্য দিতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। শনিবার দুপুরে উপজেলার দাসেরবাজার ইউনিয়নের দাসেরবাজারে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশসহ উভয় পক্ষে প্রায় ৪০ জন আহত হয়েছেন। ভাংচুর করা হয়েছে ২৫টি দোকান, ১০টি গাড়ি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশের খরচ ৮০ রাউন্ড গুলি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দাসেরবাজার ইউনিয়নের লঘাটি ও সুড়িকান্দি গ্রামবাসীর মধ্যে একটি পূর্ব বিরোধের ঘটনা মীমাংসার জন্য শনিবার সকাল ১১টার দিকে দাসেরবাজারে বৈঠক চলছিল। বৈঠক চলার সময় দুপুর ১২টার দিকে একপক্ষের একজন বক্তব্য রাখতে গেলে অপরপক্ষের একজন এতে বাধা দেন। এ নিয়ে দুপক্ষের লোকজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি থেকে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
এতে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দুপক্ষই একে অপরের ওপর আক্রমণ করে। স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় ৮০ রাউন্ড শর্টগানের ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
পুলিশের উপ পরিদর্শক (এসআই) সুব্রত কুমার দাস, কনস্টেবল তুহেলসহ উভয়পক্ষে প্রায় ৪০জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে পুলিশসহ আটজন বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে কেউ ভর্তি হননি। অন্যরা বিভিন্ন স্থানে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
সংঘর্ষের সময় বাজারের ছোটবড় প্রায় ২৫টি দোকান ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া মোটরসাইকেল, সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ ১০টি গাড়ি ভাংচুর করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: গরুচোরদের পুলিশের ধাওয়া, গাড়ি থেকে লাফিয়ে নিহত ১
বড়লেখা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দুইপক্ষের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা করছেন।
বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইয়াছিনুল হক জানান, সংঘর্ষে বড় কোনো ইনজুরির খবর পাইনি। পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে। আমরা এখনো ঘটনাস্থলে অবস্থান করছি। কোনো পক্ষ এখনও মামলা করেনি।
ইত্তেফাক/অনি