শিশু রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: কারাগারের আসামিদের পরামর্শে ‘ডলারের’ নাম বলেছিল সোহেল

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর বর্বরোচিত হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রমে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা কারাগারে থাকা অন্যান্য অপরাধীদের কুপরামর্শ ও প্ররোচনায় পড়ে মামলার জল ঘোলা করতে ‘ডলার’ নামের অন্য এক ব্যক্তির কাল্পনিক নাম জড়িয়ে জবানবন্দি দিয়েছিল বলে আদালতে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী। 

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কড়া পুলিশি পাহারায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে হাজির করা হয়। এরপর বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে বিচারক এজলাসে উঠলে মামলাটির চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক শুনানি শুরু হয়। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে আনা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও সাক্ষীদের দেওয়া রোমহর্ষক জবানবন্দি আদালতের সামনে পড়ে শোনান। অন্যদিকে আসামিপক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী মুছা কালিমুল্ল্যাহও শুনানিতে অংশ নেন।

যুক্তিতর্ক শুনানির এক পর্যায়ে বিশেষ পিপি আজিজুর রহমান দুলু আদালতকে বলেন, ‘এই প্রধান আসামি সোহেল রানা তার মূল জবানবন্দিতে কিন্তু প্রথমে ‘ডলার’ নামের কারও নাম উল্লেখ করেনি। পরবর্তীতে কারাগারে থাকা অন্যান্য আসামিদের বুদ্ধি ও পরামর্শে নিজের অপরাধ আড়াল করতে সে নতুন করে ডলারের নাম জড়িয়েছিল। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, গতকাল বুধবার সে নিজে থেকেই স্বেচ্ছায় আদালতে নিজের পৈশাচিক দোষ স্বীকার করেছে এবং এই জঘন্য অপরাধের জন্য করজোড়ে মাফ চেয়েছে। বলা যায়, বিবেকের এই তাড়না এবং সত্যের উন্মোচন আল্লাহর পক্ষ থেকেই অলৌকিকভাবে হয়েছে।’ উল্লেখ্য, গত ১ জুন পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার এই স্পর্শকাতর মামলায় বাদী আবদুল হান্নান মোল্লাসহ মোট ১৭ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল। রাষ্ট্রপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের কারণে মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে গতকালই এই মামলার ১৬ জন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ এবং জেরা সফলভাবে সমাপ্ত ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনাল।

এর আগে গত ২৪ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) অহিদুজ্জামান প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং তার সহযোগী স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে সরাসরি অভিযুক্ত করে আদালতে একটি সুনির্দিষ্ট ও তথ্যবহুল অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন। এরপর সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চার্জশিটটি আমলে গ্রহণ করে দ্রুত বিচারের স্বার্থে মামলাটি ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বদলির আদেশ দেন। একই দিন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগপত্রটি আমলে নিয়ে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে ১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন (চার্জ ফ্রেম) শুনানির দিন ধার্য করেছিলেন, যা দেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে অন্যতম একটি দ্রুততম অগ্রগতি।