এক অদ্ভুত রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে উত্তর আমেরিকায় শুরু হতে যাচ্ছে ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল। ইতিহাসের প্রথমবারের মতো তিনটি দেশ-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকো যৌথভাবে এই মেগা টুর্নামেন্ট আয়োজন করছে। মহাদেশটির বিস্তৃত ১৬টি স্বাগতিক শহরে টানা ৩৯ দিন ধরে চলবে ফুটবলের এই মহোৎসব।
তবে মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার আগে এই তিন প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ক এক চরম বৈরী সময় পার করছে। গত ডিসেম্বর মাসে ওয়াশিংটন ডিসিতে যখন বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠিত হয়েছিল, তখন অবশ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চিত্র দেখা গিয়েছিল। সেখানে ফিফা প্রধান জান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে এক ফ্রেমে সেলফিতে বন্দি হয়ে বেশ হাস্যোজ্জ্বল মুখে পোজ দিয়েছিলেন তিন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ডোনাল্ড ট্রাম্প, মার্ক কার্নি এবং ক্লাউদিয়া শিনবাম।
তখন ভেতরের গভীর মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বগুলোকে সাময়িকভাবে আড়াল করা সম্ভব হলেও সুদীর্ঘ ৩৯ দিনের এই বিশাল টুর্নামেন্ট সফলভাবে মাঠে গড়ানো সম্পূর্ণ ভিন্ন এক বল গেম। অবশ্য সবকিছু ঠিকঠাক চললে এই বিশ্বকাপ তাদের পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার একটি সোনালি সুযোগও এনে দিতে পারে।
ফুটবল ইতিহাসে এর আগে কখনো তিনটি দেশ মিলে একসঙ্গে বিশ্বকাপ আয়োজন করেনি। মহাদেশ জুড়ে বিস্তৃত এই টুর্নামেন্টে স্বাভাবিকভাবেই তিন দেশের বিভিন্ন আইনপ্রয়োগকারী ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ জড়িত রয়েছে। ম্যাচ দেখার জন্য ফুটবল ভক্তদের যখন এই তিন দেশের সীমানা পার হতে হবে, তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অভিবাসন আইন ও কড়াকড়ি লজিস্টিকগত জটিলতা তৈরি করতে পারে।
তবে ফিফা এই মডেল নিয়ে দারুণ আশাবাদী। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী এটি এমন এক মুহূর্ত যখন তিনটি দেশ এবং একটি পুরো মহাদেশ সম্মিলিতভাবে বিশ্বকে স্বাগত জানাতে একতাবদ্ধ হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে আগামী এক মাস যদি খেলার মাঠের কূটনীতি সঠিকভাবে পরিচালনা করা যায় তবে এই তিন প্রতিবেশী বড় ধরনের অর্থনৈতিক সাফল্য অর্জন করতে পারে।
এই ত্রয়ী বর্তমানে তাদের ঐতিহাসিক উত্তর আমেরিকান মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এর একটি অত্যন্ত জটিল পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ১৯৯৪ সাল থেকে চলে আসা এই বাণিজ্যিক অংশীদারিত্বের ভবিষ্যৎ এই পর্যালোচনার কারণে গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। মেক্সিকো ইতিপূর্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করলেও কানাডা এখনো তা করতে পারেনি।