‘হান্নান মাসউদ ৩ কোটি টাকা দাবি করেছিলেন’ বলা ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলা

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতা আবদুল গফফারের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী ছাত্রদল নেতার দাবি, এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক এবং নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে একটি গোপন তথ্য ফাঁস করার পর তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে এই হামলা চালানো হয়েছে। তবে সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদ এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে একে সাজানো নাটক বলে অভিহিত করেছেন।

হামলার এই ঘটনাটি ঘটেছে হাতিয়া উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের পশ্চিম বড় দেইল গ্রামে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আবদুল গফফারের পারিবারিক বাড়িতে। গত বৃহস্পতিবার রাতে সাড়ে ৮টার দিকে একদল হামলাকারী আবদুলের বাড়িতে চড়াও হয়ে ভবনের জানালা ও প্রধান ফটক ভাঙচুর করে এবং গালিগালাজ করে চলে যায়। এই ঘটনার প্রতিবাদে হাতিয়া উপজেলা ছাত্রদল এলাকায় একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেছে এবং হামলাকারীদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।

ভুক্তভোগী ছাত্রদল নেতা আবদুল গফফার সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় তিনি নিজেই হান্নান মাসউদকে নিরাপদে রেখেছিলেন এবং ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক অভিভাবকের মতো প্রায় দেড় মাস তার সাথে ছিলেন।

গফফারের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর নোয়াখালী-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরীকে নিরাপদে বিমানবন্দরে পৌঁছে দেওয়ার একটি পরিকল্পনা করেছিলেন হান্নান মাসউদ। এই কাজের বিনিময়ে তিনি ৩ কোটি টাকা দাবি করেছিলেন, যেটিতে তখন আবদুল গফফার বাধা দেন।

এই ৩ কোটি টাকা দাবির বিষয়টি সম্প্রতি আবদুল গফফার গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান বিএনপি নেতা মুহাম্মদ রাশেদ খানকে জানালে তিনি এটি নিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। গফফার সেই পোস্টটি নিজের ফেসবুক আইডিতে শেয়ার করার পর থেকেই এমপি হান্নান মাসউদের অনুসারীরা তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং ফেসবুকে নানা রকম হুমকি ও গালাগাল দিতে থাকে। হাতিয়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রিয়াজ মাহমুদও এই বক্তব্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, দুই দিন ধরে হুমকি দেওয়ার পর এনসিপির কর্মীরাই এই পরিকল্পিত হামলাটি ঘটিয়েছে।

অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ বলেন, তার নিজের বাড়িতেই হামলা হয়েছে এবং তিনি সেগুলো সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে তিনি কেন অন্যের বাড়িতে হামলা করতে যাবেন?

আওয়ামী লীগ নেতাকে বিমানবন্দর পৌঁছে দিতে টাকা দাবির ঘটনাটি সম্পূর্ণ অসত্য দাবি করে তিনি বলেন, এটি রাজনৈতিকভাবে তাঁকে হেয় করার জন্য একটি সাজানো নাটক মাত্র। একই সাথে হাতিয়া উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক সামছুল কিবরিজও অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, ভাইরাল হওয়ার জন্য ছাত্রদল নেতারাই নিজেরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন জানিয়েছেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এই ঘটনার প্রেক্ষিতে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ থানায় দায়ের করা হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।