‘শট শেষ বলার পরও ছাড়েননি অভিনেতা, হেনস্তার অভিযোগ আনলেন নায়িকা’ 

মারাঠি সিনেমা, হিন্দি ছবি এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্মে নিজের সাবলীল অভিনয়ের দাপটে এক নিজস্ব পরিচিতি তৈরি করেছেন ভারতীয় অভিনেত্রী প্রিয়া বাপট। বিশেষ করে ‘সিটি অফ ড্রিমস’ ওয়েব সিরিজে তার অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল। কিন্তু কেরিয়ারের শুরুর দিনগুলো মোটেও সহজ ছিল না এই অভিনেত্রীর জন্য।

শনিবার (৬ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। 

সম্প্রতি ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে শুটিং সেটে সহ-অভিনেতার মাধ্যমে যৌন হেনস্তার শিকার হওয়ার একটি ঘটনা প্রকাশ করেছেন এই নায়িকা। 

এক সাক্ষাৎকারে এই অভিনেত্রী জানান, একটি সিনেমার গানের দৃশ্যের শুটিংয়ের সময় পরিচালক ‘কাট’ বলার পরও তার সহ-অভিনেতা অনবরত তাকে চুমু খেতে থাকেন। ইন্ডাস্ট্রিতে তখন একেবারে নতুন হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে এর কড়া প্রতিবাদ করতে পারেননি বলে জানান ওটিটি ও হিন্দি সিনেমার এই পরিচিত মুখ।

ওই সিনেমার চিত্রনাট্য পড়ার সময়ই একটি চুম্বনের দৃশ্য নিয়ে তার আপত্তি ছিল উল্লেখ করে প্রিয়া বাপট জানান, কিন্তু পরিচালকের জোরাজুরিতে পেশাদারত্বের খাতিরে তিনি দৃশ্যটি করতে রাজি হন। 

তবে বিপত্তি ঘটে গানের দৃশ্য ধারণের সময়। যখন পূর্বপরিকল্পিত দৃশ্য ছাড়াই ওই অভিনেতা আচমকা শারীরিক ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে শুরু করেন। শুধু শুটিং সেটেই নয়, ভোপালে আউটডোর শুটিং চলাকালীন হোটেলেও ওই অভিনেতা ফোন ও মেসেজের মাধ্যমে প্রিয়াকে নানা কুপ্রস্তাব দিয়ে হেনস্তা করার চেষ্টা করেন। 

প্রিয়া বলেন, গানটার শুটিংয়ের সময় ওই অভিনেতা নিজের মতো করে সিন ইম্প্রোভাইজ করতে শুরু করে। ও শটের বাইরেও অনবরত আমাকে চুমু খেয়ে যাচ্ছিল! আমি জানি না কেন, কিন্তু সেই সময় আমি তার এই আচরণের বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ নিতে পারিনি, নিজের জন্য রুখে দাঁড়াতে পারিনি। কারণ আমি তখন একদম নতুন, বুঝতেই পারছিলাম না যে এইরকম একটা পরিস্থিতির মুখোমুখি কীভাবে হতে হয়।

বিষয়টি এক পর্যায়ে তাকে মানসিক চাপে ফেলে; বিষয়টি স্বামীকে জানান। পরে নায়িকার স্বামী সরাসরি শুটিং সেটে গিয়ে অবস্থান করেন এবং সেই সহ-অভিনেতার আচরণ সংশোধন করতে বাধ্য করান।

উল্লেখ্য, ২০০০ সালে ‘ডক্টর বাবাসাহেব আম্বেদকর’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্র জগতে পা রাখেন তিনি। এরপর বলিউডের ‘মুন্নাভাই এমবিবিএস’ এবং ‘লাগে রাহো মুন্নাভাই’ ছবিতে অভিনয় করে দর্শকদের মনে জায়গা করে নেন তিনি। এছাড়া ‘কাকস্পর্শ’ ও ‘টাইমপাস টু’ ছবিতে তার অভিনয় সমালোচকদের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রশংসা পায়।