যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যুদ্ধবিরতির আলোচনায় লেবাননকে 'দর-কষাকষির হাতিয়ার' বানানোর অভিযোগের জবাব দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। এর আগে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন তেহরানের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ এনেছিলেন।
শনিবার (৬ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাঘচি বলেন, মি. আউনের মন্তব্য শুনে মনে হয় যেন ইরানই লেবাননের এক-পঞ্চমাংশ এলাকা দখল করে আছে, এক-চতুর্থাংশ লেবানিজকে বাস্তুচ্যুত করেছে এবং প্রতিদিন তাদের দেশে বোমাবর্ষণ করছে।
তিনি আরও বলেন, যদি লেবানন সত্যিই ইরানের দর কষাকষির হাতিয়ার হতো, তাহলে অনেক আগেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি চুক্তি হয়ে যেত। লেবাননের প্রেসিডেন্টকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, মি. প্রেসিডেন্ট, লেবাননকে আসল শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করুন।
গত ৩ জুন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে ইসরাইল ও লেবানন শর্তসাপেক্ষে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। চুক্তি অনুসারে, যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি কার্যকর হওয়া নির্ভর করছে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর হামলা সম্পূর্ণ বন্ধ করা এবং দক্ষিণ লেবানন থেকে তাদের যোদ্ধাদের সরিয়ে নেওয়ার ওপর। এছাড়া কয়েকটি পাইলট জোন প্রতিষ্ঠার ব্যাপারেও দুই পক্ষ একমত হয়েছে, যেখানে শুধু লেবানিজ সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণ রাখবে।
তবে হিজবুল্লাহ এই চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে। গোষ্ঠীটি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা এ ধরনের আলোচনাকে স্বীকৃতি দেয় না এবং মানবে না। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)ও হিজবুল্লাহর প্রতি সমর্থন জানিয়ে চুক্তিটি প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইরান ও হিজবুল্লাহর এই অবস্থানের পর লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। শুক্রবার (৫ জুন) সিএনএনের ক্রিশ্চিয়ান আমানপুরকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরান লেবাননকে দর কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে, যা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।
তিনি আরও বলেন, এটা আপনাদের দেশ নয়, এটা আমাদের দেশ। এটাকে রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা আপনাদের কাজ নয়। আউন হিজবুল্লাহকেও সতর্ক করে বলেছেন যে, আলোচনা ও কূটনীতির বাইরে এই সংকটের কোনো সমাধান নেই।
বর্তমানে লেবাননে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। ইরান-হিজবুল্লাহ অক্ষ এবং লেবানন সরকারের মধ্যে এই স্পষ্ট মতবিরোধ আঞ্চলিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।