মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে ইরান ইস্যু নিয়ে ক্রমবর্ধমান মত পার্থক্যের মধ্যে ইসরায়েলের গোয়েন্দা তৎপরতা নিয়ে পেন্টাগনে উদ্বেগ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন যে, তারা নিজেরাই ইসরায়েলের নজরদারির লক্ষ্যবস্তু হতে পারেন।
শনিবার (৬ জুন) এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা (ডিআইএ) সম্প্রতি ইসরায়েলের কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স হুমকির স্তরকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে, অর্থাৎ ঝুঁকিপূর্ণ স্তরে উন্নীত করেছে। বর্তমান ও একজন সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইসরায়েল সফরে যাওয়ার সময় মার্কিন কর্মকর্তারা এখন বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছেন। এর মধ্যে রয়েছে বার্নার ফোন (একবার ব্যবহারযোগ্য ফোন), সাময়িক কম্পিউটার এবং কঠোর যোগাযোগ নিয়মকানুন। বিশেষ করে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা হোটেলের কক্ষ বা অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় সংবেদনশীল আলোচনা এড়িয়ে চলছেন।
পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন
গত কয়েক সপ্তাহে ডিআইএ একটি সাত পৃষ্ঠার অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন নথি তৈরি করেছে। এতে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের গুপ্তচরবৃত্তি ও প্রযুক্তিগত তথ্য সংগ্রহ সক্ষমতাকে ঝুঁকিপূর্ণ স্তরে বিবেচনা করা উচিত। ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান নীতি নিয়ে অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তের তথ্য জানার জন্য ইসরায়েল আগ্রাসী প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে এই নথিতে।
সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের প্রতিরক্ষা বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট এমিলি হার্ডিং বলেন, ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে আমরা অত্যন্ত আগ্রাসী বলে মনে করি। আমরা কী করছি, সে সম্পর্কে তাদের গভীর আগ্রহ রয়েছে।
ইসরায়েল এ অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। ওয়াশিংটনে নিযুক্ত ইসরায়েলের দূতাবাসের মুখপাত্র বলেছেন, এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা। ইসরায়েল মার্কিন কর্মকর্তাদের বা আমেরিকান কোনো প্রতিষ্ঠানের তথ্য সংগ্রহ করে না। আমাদের গোয়েন্দা অভিযান শত্রুদের বিরুদ্ধে, মিত্রদের বিরুদ্ধে নয়।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তাও প্রতিবেদনটিকে মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
এই উদ্বেগ প্রকাশ পেয়েছে এমন এক সময়ে, যখন ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে স্পষ্ট ফাটল দেখা দিয়েছে। ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে একটি বড় ধরনের চুক্তির চেষ্টা করছেন, অন্যদিকে নেতানিয়াহু তেহরানের ওপর আরও সামরিক চাপ প্রয়োগের পক্ষে জোর দিচ্ছেন। সম্প্রতি এক উত্তপ্ত ফোনালাপে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে পাগল বলে উল্লেখ করেছেন বলেও জানা গেছে।
মিত্র দেশগুলোর মধ্যে সীমিত গোয়েন্দা তৎপরতা অস্বাভাবিক নয় বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তারা মনে করছেন, ইসরায়েলের ক্ষেত্রে এটি সাধারণ সীমা ছাড়িয়ে গেছে।
সূত্র: এনবিসি নিউজ