কুমিল্লায় যাত্রীবাহী বাস-অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে ৩ শ্রমিক নিহত

কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কে এক ভয়াবহ ও মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার তিন আরোহী ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। শনিবার (৬ জুন) রাত ৮টার দিকে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার রতনপুর নামক এলাকায় এই রক্তক্ষয়ী মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

লালমাই হাইওয়ে থানা পুলিশ জানিয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম-পরিচয় নিশ্চিত করা না গেলেও প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে তারা সবাই উত্তরবঙ্গ থেকে কুমিল্লা অঞ্চলে এসে দিনমজুর বা শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। মহাসড়কে এই তিন শ্রমিকের আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুর খবরে স্থানীয় এলাকাবাসী এবং শ্রমিক মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

লালমাই হাইওয়ে থানা পুলিশের অফিশিয়াল ও নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, আজ রাতে ‘শাহ আলী সুপার’ নামের একটি যাত্রীবাহী দ্রুতগামী বাস নোয়াখালী থেকে কুমিল্লা শহরের দিকে যাচ্ছিল। বাসটি সদর দক্ষিণ উপজেলার রতনপুর এলাকা অতিক্রম করার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে সামনাসামনি তীব্র সংঘর্ষ ঘটে। বাসের গতি এতই বেশি ছিল যে ধাক্কায় অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং এর ভেতরে থাকা তিন আরোহী মহাসড়কে ছিটকে পড়ে তীব্র আঘাত পান। বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে ঘটনাস্থলেই ওই তিন শ্রমিকের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পরপরই ঘাতক বাসের চালক ও হেলপার গাড়িটি রেখে কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশের একটি বিশেষ উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন দুটি জব্দ করে এবং নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। লালমাই হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওসমান গণি দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ওই তিন ব্যক্তির নাম-পরিচয় পুরোপুরি শনাক্ত করতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় ফিঙ্গারপ্রিন্টসহ বিভিন্ন প্রযুক্তির মাধ্যমে কাজ চলছে। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে। এই ঘটনায় ঘাতক বাসটিকে আটক করা হয়েছে এবং চালককে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। সড়ক আইনে মামলাসহ পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’