৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ: গ্রাম্য চিকিৎসককে পিটুনি দিয়ে পুলিশে দিল জনতা

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে নিজের অসুস্থ দাদির জন্য ওষুধ আনতে গিয়ে এক অবুঝ ও নিষ্পাপ শিশু (৮) বর্বরোচিত ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই পৈশাচিক ও ন্যাক্কারজনক ঘটনার জানাজানি হতেই স্থানীয় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত আফতাব ওরফে তরিকুল নামের এক গ্রাম্য চিকিৎসককে গণপিটুনি দিয়ে ঘরের মধ্যে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে পুলিশে সোপর্দ করে তারা। 

শনিবার (৬ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কালীগঞ্জ উপজেলার এক প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে এই হীন অপরাধের ঘটনা ঘটে। সংবাদ পেয়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে কালীগঞ্জ থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়। এই ঘটনায় পুরো এলাকাজুড়ে চরম উত্তেজনা ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবারের তথ্যমতে, শিশুটি স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। বিকেলে তার দাদির আকস্মিক অসুস্থতার কারণে সে বাড়ির পাশের বাজারে তরিকুল ডাক্তারের ফার্মেসিতে ওষুধ আনতে গিয়েছিল। স্থানীয়রা জানান, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দোকানে আর কোনো ক্রেতা বা অন্য কেউ না থাকার সুযোগে অভিযুক্ত তরিকুল ওই অবুঝ মেয়েটিকে কৌশলে দোকানের ভেতরের একটি গোপন রুমে নিয়ে যায় এবং জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে শিশুটি রক্তাক্ত ও কান্নাকাটি অবস্থায় বাড়িতে ফিরে তার মা-বাবাকে এই পৈশাচিক ঘটনা জানালে পরিবারের সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় সমাজসেবক ও প্রতিবেশীদের বিষয়টি অবহিত করেন। মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়লে শত শত বিক্ষুব্ধ মানুষ ওই চিকিৎসকের দোকান ঘেরাও করে তাকে গণধোলাই দেয়।

নৃশংস এই ঘটনার পর কান্নায় ভেঙে পড়ে ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বিকেলে আমার ছোট মেয়েটি ওষুধ আনতে গেলে তরিকুল ডাক্তার এই জঘন্য ও পৈশাচিক কাণ্ড ঘটায়। আমি একজন অসহায় বাবা হিসেবে প্রশাসনের কাছে এই নরপশুর দৃষ্টান্তমূলক ফাঁসি এবং এই ঘটনার সুষ্ঠু ও দ্রুততম বিচার চাই।’

এদিকে ঘটনার পরপরই রাতেই শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য দ্রুত কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. আরিফুল ইসলাম প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে গণমাধ্যমকে জানান, প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করে মনে হচ্ছে শিশুটিকে পৈশাচিক উপায়ে ধর্ষণ করা হয়েছে। তবে ধর্ষণের বিষয়টি আরও শতভাগ নিশ্চিত হওয়া এবং উচ্চতর ফরেনসিক আলামত সংগ্রহের জন্য ভিকটিমকে উন্নত পরীক্ষার জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন বলেন, ‘ফার্মেসিতে এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে এক গ্রাম্য চিকিৎসককে জনতা আটকে রেখেছে—এমন সংবাদ পাওয়া মাত্রই পুলিশের একটি ফোর্স পাঠিয়ে অভিযুক্তকে দ্রুত আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এরই মধ্যে নির্যাতিত শিশুটিকে উন্নত ডাক্তারি ও মেডিকেল ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ভিকটিমের মেডিকেল রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে এবং ভুক্তভোগী পরিবারের লিখিত এজাহারের আলোকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।’