সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগে কোথায় ছিলেন বুবলী?

চিত্রনায়িকা শবনম বুবলী আবারও মা হয়েছেন। শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের পোস্টে তিনি জানান, গত ১১ মে তার কন্যাসন্তানের জন্ম হয়েছে। মেয়ের নাম রাখা হয়েছে শারলিন খান। খবরটি প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুভেচ্ছা জানান বুবলীর ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষীরা। অভিনন্দনের পাশাপাশি নতুন করে সামনে আসে আরেকটি প্রশ্ন, কয়েক মাস ধরে আলোচনার বাইরে থাকা বুবলী এত দিন কোথায় ছিলেন? প্রথম সন্তান শেহজাদ খানের মতো এবারের সন্তানের জন্মও কি যুক্তরাষ্ট্রে, নাকি বাংলাদেশে?

বিনোদন অঙ্গনে কয়েক মাস ধরে বুবলীকে নিয়ে নানা গুঞ্জন ছিল। কয়েক মাস ধরে তাকে আগের মতো জনসমক্ষে দেখা যাচ্ছিল না। সিনেমা মুক্তি পেলেও প্রিমিয়ার, এমনকি সংবাদ সম্মেলন কিংবা প্রচারণা অনুষ্ঠানে তার উপস্থিতি ছিল সীমিত। বছরের শুরুতে তিনি একেবারে আড়ালে চলে যান। ফলে ভক্তদের কৌতূহল বাড়তে থাকে।

এরই মধ্যে সামাজিকমাধ্যমে শবনম বুবলীর কিছু ছবি ও ভিডিও নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। অনেকের নজরে আসে তার শারীরিক পরিবর্তন। ভক্তদের একটা অংশ তখন কানাঘুষা করতে শুরু করে, বুবলী হয়তো আবার মা হতে চলেছেন।

বছরের শুরুতে হঠাৎই শবনম বুবলীকে প্রকাশ্যে কম দেখা যেতে থাকে। যাদের সঙ্গে কাজ চলছিল, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন তিনি। তখন চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট অনেকের আলোচনা, সন্তান জন্ম দিতে বুবলী হয়তো যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন। কারণ, এর আগেও বুবলী সন্তান জন্ম দিতে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন। বুবলীর ঘনিষ্ঠজনদের কয়েকজন জানিয়েছেন, এবারও যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা আর বাস্তবায়ন হয়নি।

পরিচিতজনদের কেউ কেউ দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসনসংক্রান্ত কড়াকড়ির কারণে শেষ মুহূর্তে বুবলীর যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া সম্ভব হয়নি। যদিও এ বিষয়ে বুবলী নিজে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে তার ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্রের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে না গিয়ে পুরো সময়টাতে ঢাকায় ছিলেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাতৃত্বকালীন পুরো সময়ে ঢাকাতেই চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ছিলেন বুবলী। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়েছেন। নিজের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষায় খুব সীমিত পরিসরে চলাফেরা করেছেন। এমনকি হাসপাতালেও যাতায়াত করতেন আড়াল বজায় রেখে।

মা হওয়ার কয়েক মাস আগপর্যন্তও শুটিং এবং বিভিন্ন পণ্য প্রতিষ্ঠানের কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন শবনম বুবলী। একাধিক সিনেমার শুটিং করেছেন। পরিচালক রায়হান রাফির ‘প্রেশার কুকার’ ছবির শুটিংও করেছেন ওই সময়। গত পবিত্র ঈদুল ফিতরে ছবিটি মুক্তি পায়। কিন্তু ছবিটি মুক্তি পেলেও প্রচারণায় দেখা যায়নি তাকে। বিষয়টি তখন অনেকের নজরে আসে। কারণ, নিজের সিনেমা মুক্তি পেলে সাধারণত হলভিজিট, মানুষের সঙ্গে কথাবার্তা বলা কিংবা গণমাধ্যমের মুখোমুখি হওয়ায় বেশ সরব থাকেন বুবলী। এবার তার অনুপস্থিতি রহস্য বাড়িয়ে দেয়।

বিনোদন অঙ্গনের অনেকেই তখন ধারণা করেছিলেন, শবনম বুবলী হয়তো দেশের বাইরে আছেন। পরিচালকও বলেছিলেন, বুবলী অসুস্থ তাই এখন তিনি প্রকাশ্যে আসছেন না। আবার কেউ কেউ মাতৃত্বের বিষয়টিকে কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন। তবে বুবলী কিংবা তার পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কিছুই বলা হয়নি।

কন্যাসন্তান জন্মের খবরটি ফেসবুক পোস্টে জানানোর পর সন্তানের জন্ম কোথায় হয়েছে, সেটি নিয়েও নানা আলোচনা ছিল। বুবলীর কাছের মানুষ হিসেবে পরিচিত কয়েকজন প্রথমে ঢাকার গুলশান ও পান্থপথ এলাকার দুটি হাসপাতালের নাম জানান। পরে একাধিক ঘনিষ্ঠজন নিশ্চিত করেছেন, ওই দুটি হাসপাতালের কোনোটিতে নয়, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালেই বুবলীর কন্যাসন্তানের জন্ম হয়েছে। যদিও হাসপাতালের নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি সংশ্লিষ্টরা।

শুক্রবার কন্যাসন্তানের মা হওয়ার খবর জানিয়ে ফেসবুক পোস্টে বুবলী লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে আমাদের পরিবারে একটি কন্যাসন্তানের আগমন হয়েছে। এই আনন্দের মুহূর্তে যারা আমাদের জন্য দোয়া করেছেন এবং শুভকামনা জানিয়েছেন, তাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আমাদের মেয়ের জন্য সবার দোয়া কামনা করছি।’

পোস্টের সঙ্গে একটি ফটোকার্ডও প্রকাশ করেন শবনম বুবলী। সেখানে উল্লেখ করা হয়, গত ১১ মে জন্ম হয়েছে তার কন্যাসন্তানের। নাম রাখা হয়েছে শারলিন খান। পোস্টে অভিনেতা শাকিব খানকেও ট্যাগ করেন বুবলী। খবরটি প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা তৈরি হয়। কয়েক মিনিটের মধ্যেই হাজার হাজার প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্য জমা হয় পোস্টটিতে। সহশিল্পী, পরিচালক, ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা নবজাতকের জন্য শুভকামনা জানান।

এদিকে মাতৃত্বের কারণে পিছিয়ে যাওয়া কাজগুলোও ধীরে ধীরে গুছিয়ে নিচ্ছেন বুবলী। তার সঙ্গে কাজ করা কয়েকজন পরিচালক জানিয়েছেন, তিনি ইতিমধ্যে যোগাযোগ শুরু করেছেন। শারীরিকভাবে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠলে দুই-এক মাসের মধ্যেই আবারও শুটিংয়ে ফিরতে পারেন।

২০২০ সালের ২১ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে শাকিব খান-শবনম বুবলীর সন্তান শেহজাদ খান বীরের জন্ম হয়। দুই বছর পর ২০২২ সালে সন্তান জন্মের খবরটি একসঙ্গে প্রকাশ্যে আনেন এই দুই তারকা। তবে এবার এক মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই কন্যাসন্তান জন্মের খবরটি প্রকাশ্যে আনলেন বুবলী।

দীর্ঘ কয়েক মাসের নীরবতা, আড়ালে থাকা এবং নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নিজের জীবনের নতুন অধ্যায়ের খবর নিজেই জানালেন শবনম বুবলী। মাতৃত্বের এই ব্যক্তিগত সময়টুকু যে তিনি আলোচনার বাইরে, নিজের মতো করেই কাটাতে চেয়েছিলেন, সেটিও পরিষ্কার হয়ে উঠেছে তার এই সময়ের কর্মকাণ্ডে।

সূত্র: প্রথম আলো