ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের সাইনবোর্ড থেকে নারায়ণগঞ্জ অংশে প্রবেশের পর নতুন কোর্ট পর্যন্ত এ সড়কের সৌন্দর্য যে কারোরই নজর কাড়বে। ছয় লেনে উন্নীত এ সড়কটি এলিভেটেড এক্সপ্রেস সড়কের আদলে তৈরি। সড়ক বিভাজনে নানা রঙের ফুলের গাছ আর তাতে ফুটে থাকা রং-বেরঙের ফুল সড়কটির সৌন্দর্যকে আরো বাড়িয়ে তুলেছে। এ এতো গেলো সড়কটির দিবালোকের দৃশ্য। কিন্তু নয়নাভিরাম এই সড়কটিই রাতের অন্ধকারে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে অপরাধীদের পদচারণায়।
শত কোটি টাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ১৬ কোটি টাকার স্ট্রিট লাইট প্রকল্প, ৭৪৮টি সড়কবাতি সবকিছু থাকলেও বাস্তবে দীর্ঘ ৮ কিলোমিটার এই সড়কের বেশির ভাগ অংশই ডুবে থাকে ঘন অন্ধকারে। ফলে দুর্ঘটনা, ছিনতাইসহ নানা কারণে এই সড়ক রাতের বেলায় নিরাপত্তাহীন।
রাজধানী ঢাকার সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই সংযোগ সড়কে বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও নিরাপত্তা মিলছে না। কয়েক বছর আগে এই সড়কে সড়কবাতি ও সাইন সিগন্যাল স্থাপনে ব্যয় হয় ১৬ কোটি টাকা। কিন্তু বাস্তব চিত্র বলছে, প্রকল্পের বড় অংশ এখন কার্যত অকার্যকর।
সম্প্রতি এক রাতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, জেলা পরিষদ, রেজিস্ট্রি অফিস, জেলা জজ আদালত, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, বিআরটিএ, পাসপোর্ট অফিস, কারাগার, এলজিইডি, সিভিল সার্জনের কার্যালয়, এলজিইডি, গণপূর্তসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনার সামনের সড়কেও নেই সড়ক বাতি। রাত হলেই নেমে আসে অন্ধকার।
লোকজন তার চুরি করে নিয়ে যায়। প্রায় ৮ কিলোমিটার রাস্তা সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা কঠিন কাজ। আমাদের ঐ রকম বাজেট নেই। সমাজের বিত্তশালীদের কাছে অনুরোধ করেছি। চুরিপ্রবণ এলাকাগুলোতে সিসি ক্যামেরা লাগানো হবে
—মো. রায়হান কবির, নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক
সড়কের মাঝখানে ল্যাম্পপোস্ট থাকলেও অধিকাংশ স্থানে বাতি জ্বলে না। বিশেষ করে জেলা পরিষদ ও রেজিস্ট্রি অফিসের সামনের ইউটার্ন এলাকাকে স্থানীয়রা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করছেন।
এছাড়া লিংক রোডের উভয় পাশে রপ্তানিমুখী গার্মেন্টসসহ নানা শিল্প কারখানা গড়ে উঠেছে। যে কারণে লিংক রোডটি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সড়কবাতি না থাকায় রাতের বেলায় সড়কটিতে যাতায়াত বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় ইজিবাইক চালকরা এ সড়কে সবচেয়ে বেশি ছিনতাইয়ের শিকার হন। বেশ কয়েকটি বাস ডাকাতির ঘটনাও ঘটেছে এখানে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কবাতির মূল বৈদ্যুতিক তার বারবার চুরি হয়ে যাওয়ায় পুরো ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।
নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, লোকজন তার চুরি করে নিয়ে যায়। প্রায় ৮ কিলোমিটার রাস্তা সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা কঠিন কাজ। আমাদের ঐ রকম বাজেট নেই। সমাজের বিত্তশালীদের কাছে অনুরোধ করেছি। চুরিপ্রবণ এলাকাগুলোতে সিসি ক্যামেরা লাগানো হবে। আমাদের কার্যক্রম চলছে। আশা করছি, খুব শিগগিরই এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে।