নাগরিক সেবায় অবহেলা বা দায়িত্ব পালনে গাফিলতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। তিনি বলেছেন, মৌলিক সেবা প্রদানে কোনো ধরনের অবহেলা প্রমাণিত হলে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, প্রয়োজনে চাকরিচ্যুতিও করা হবে।
ডিএসসিসির অঞ্চল-২ ও অঞ্চল-৫-এর আওতাধীন বিভিন্ন সেবা ও সমস্যা নিয়ে বাসাবোর বৌদ্ধ মন্দির অডিটোরিয়ামে আয়োজিত গণশুনানিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, নাগরিকদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা সিটি করপোরেশনের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। তবে একটি বাসযোগ্য ও পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তুলতে জনগণেরও সমান অংশগ্রহণ প্রয়োজন। বর্জ্য অপসারণ, সড়কবাতি স্থাপন, মশক নিয়ন্ত্রণ এবং সড়ক সংস্কারে প্রশাসন কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন ও নাগরিকদের দায়িত্ব ৫০-৫০ ভিত্তিতে ভাগ করে নিতে হবে।
জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বৃষ্টির সময় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পানি জমার সমস্যা নিরসনে কাজ চলছে। এ বিষয়ে ভবিষ্যতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সেবা প্রদানে অবহেলার বিষয়ে কঠোর বার্তা দিয়ে আবদুস সালাম বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্র সংশ্লিষ্ট সেবা, জন্মনিবন্ধন, মশক নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং স্ট্রিট লাইটের মতো গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক সেবায় কোনো ধরনের শিথিলতা বরদাশত করা হবে না। দায়িত্বে গাফিলতি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আসন্ন ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া মৌসুমের কথা উল্লেখ করে তিনি মশক নিয়ন্ত্রণে সব এলাকায় কার্যক্রম জোরদারের কথা জানান। পাশাপাশি নাগরিকদের নিজ নিজ বাড়ির আঙিনা, ফুলের টব, ছাদ এবং ফ্রিজের নিচে জমে থাকা পানি পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, জনগণই রাষ্ট্রের ক্ষমতার উৎস। তাই উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, ব্যয় এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জনগণের জানার অধিকার রয়েছে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই সুশাসনের ভিত্তি।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা-৯ আসনে সড়ক উন্নয়ন, আরসিসি ঢালাই, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও পাইপলাইন স্থাপনসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং আরও বেশ কয়েকটি প্রকল্প চলমান রয়েছে।
গণশুনানিতে অঞ্চল-২ ও অঞ্চল-৫-এর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন। এসময় নাগরিকরা জলাবদ্ধতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো উন্নয়ন, জনস্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্নতা, ট্রেড লাইসেন্স ও হোল্ডিং ট্যাক্স সংক্রান্ত নানা সমস্যা ও অভিযোগ তুলে ধরেন। পরে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কর্মকর্তারা নাগরিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন।