দুর্ঘটনাকবলিত একটি বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা কেন্দ্রে করে ভূরুঙ্গামারী থেকে কুড়িগ্রাম ও ঢাকা রুটে বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে ‘কুড়িগ্রাম ও উত্তর ধরলা বাস মালিক সমিতি’। বাস চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
সর্বশেষ বুধবার (১০ জুন) বিকেল ৫টার দিকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ওই রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এর আগে সোমবার রাতে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার আন্ধারীঝাড়ে সড়ক দুর্ঘটনায় এক ব্যক্তি আহত হলে উত্তেজিত জনতা ঢাকাগামী ‘স্বাধীন পরিবহন’ নামের একটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার বিকেল থেকে কুড়িগ্রাম ও উত্তর ধরলা বাস মালিক সমিতি ভূরুঙ্গামারীর সঙ্গে সব ধরনের বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়। এতে ঢাকাগামী যাত্রীদের কুড়িগ্রাম জেলা সদরে গিয়ে বাসে উঠতে হচ্ছে। কুড়িগ্রামগামী যাত্রীদেরও অটোরিকশায় কুড়িগ্রাম যেতে হচ্ছে। অন্যদিকে বাসে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় গত মঙ্গলবার রাতে নূরে আলম সিদ্দিকী মুকুট বাদি হয়ে ১৪ জনকে আসামি (অজ্ঞাত ২৫/৩০ জন) করে ভূরুঙ্গামারী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
ভোগান্তির শিকার যাত্রীদের মধ্যে মাহাদী ইমাম, মাহজুবাহ হক ও আলেফ উদ্দিন জানান, ঢাকা যাওয়ার জন্য নাইট কোচের টিকিট সংগ্রহ করেছিলেন তারা। পরে কাউন্টার থেকে জানানো হয়েছে বাস ভূরুঙ্গামারীতে আসবে না। কুড়িগ্রাম গিয়ে বাসে উঠতে হবে।
তারা বলেন, ব্যাগ-বস্তা ও মালামাল নিয়ে ৪০ কিমি পাড়ি দিয়ে কীভাবে কুড়িগ্রাম যাবো চিন্তায় রয়েছি। এতে একদিকে সময় নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে অর্থ ও বাড়তি শ্রম ব্যয় হচ্ছে।
কুড়িগ্রাম বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কফিল উদ্দিন বলেন, আমাদের বাস ও শ্রমিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে বাস চলাচল বন্ধ রেখেছি। অভিযুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তার এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে শ্রমিক ও বাসের নিরাপত্তা পেলে বাস চালু করা সম্ভব হবে। তিনি এই ব্যাপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আজিম উদ্দিন জানান, বাস পোড়ানোর ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিকে মুমূর্ষু অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বাস চালুর ব্যাপারে কুড়িগ্রাম মালিক সমিতির সঙ্গে যোাগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার অমৃত দেব নাথ জানান, বিষয়টি নিয়ে উত্তর ধরলা মটর মালিক সমিতির সম্পাদক স্বপন কুমার সাহার সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি বৈঠকে বিকেলে বসবেন বলে জানিয়েছেন।