সুন্দরবনে অস্ত্র-গোলাবারুদসহ ‘জোনাব বাহিনীর’ তিন সদস্য আটক

অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড এর আওতায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ‘জোনাব বাহিনীর’ তিন সক্রিয় সদস্যকে আটক করেছে কোস্টগার্ড।

বুধবার (১০ জুন) কোস্টগার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান। এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত দুই দফা অভিযানে তিনজনকে আটক ও অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।

আটকরা হলেন- আজিবার গাজী (৪৭), রবিউল গাজী (৪৪) এবং ফারুক হোসেন (৩৬) সকলেই সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর থানার বাসিন্দা।

কোস্টগার্ড জানায়, সুন্দরবনে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এই অভিযানের ধারাবাহিকতায় ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’-এর আওতায় অভিযান পরিচালনা করে সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত জোনাব বাহিনীর তিন সক্রিয় সদস্যকে অস্ত্র, গোলাবারুদসহ আটক করা হয়।

সংস্থাটির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে খবর পেয়ে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এতে তাদের কাছে খবর আসে, সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ‘জোনাব বাহিনীর সদস্যরা সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানার কালিঞ্চি স্লুইচগেইট সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় কোস্টগার্ড স্টেশন কৈখালী ওই এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এসময় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের তথ্যের ভিত্তিতে রাত ১১টায় শ্যামনগর থানাধীন হরিণটানা খাল সংলগ্ন এলাকা থেকে একটি একনলা বন্দুক ও ২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।

লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে জোনাব বাহিনীর সক্রিয় সদস্য হিসেবে সুন্দরবন এলাকায় ডাকাতিসহ সাধারণ জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল। উদ্ধার হওয়া অস্ত্র, গোলাবারুদ ও আটক ডাকাতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের নিয়মিত অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।