কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের নৌযান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরানের সর্বোচ্চ সামরিক কমান্ড। তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কোনো জাহাজ এই জলসীমায় প্রবেশের চেষ্টা করলে সেটিকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হবে। তবে ইরানের এমন দাবিকে পুরোপুরি নাকচ করে দিয়ে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম জানিয়েছে যে বাণিজ্যিক জাহাজগুলো এখনও নির্বিঘ্নে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করছে।
বুধবার (১০ জুন) মার্কিন বিমান হামলার পর বিশ্বজ্বালানির অন্যতম প্রধান এই চোক পয়েন্টটি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরান আবারও এমন মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে।
ইরানের জারি করা এই নতুন নিষেধাজ্ঞা তেলবাহী ট্যাংকার এবং সাধারণ বাণিজ্যিক জাহাজসহ সব ধরনের নৌযানের ওপর কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে। মূলত বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের মোট সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে এর বড় ধরনের প্রভাব রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরেই এই প্রণালিতে ইরানের কঠোর বিধিনিষেধ চলছে এবং এর বিপরীতে আমেরিকাও ইরানি বন্দরগুলোর ওপর নৌ-অবরোধ বজায় রেখেছে। আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই দীর্ঘস্থায়ী সামরিক উত্তেজনার ফলে বিশ্বজুড়ে খাদ্যদ্রব্য, জ্বালানি তেল এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উৎপাদন ও পরিবহন খরচ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এমন উদ্ভূত পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার এক বিতর্কিত দাবি করে জানিয়েছেন যে আমেরিকা বেশ কিছুদিন ধরে ইরান থেকে গোপনে তেল সরিয়ে নিচ্ছে। তিনি প্রথমবারের মতো এই তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করে বলেন যে মার্কিন প্রশাসন প্রতি রাতে ইরান থেকে লাখ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বের করে নিয়ে আসছে।
ট্রাম্প এই প্রক্রিয়ার বিশদ কোনো বিবরণ না দিলেও দাবি করেন যে এই বিশেষ পদক্ষেপের কারণেই বর্তমানে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ২৫০ ডলারে না উঠে ৮৫ থেকে ৯০ ডলারের মধ্যে স্থিতিশীল রয়েছে।
এর বিপরীতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড রাতের এক বিশেষ বার্তায় জানিয়েছে যে ইরানের অবরোধের দাবিটি মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার সাথে মিলছে না। সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী বাণিজ্যিক জাহাজগুলো এখনও স্বাভাবিক নিয়মেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে ভেতরে প্রবেশ এবং বাইরে বের হওয়া অব্যাহত রেখেছে। য
দিও সামরিক বিশ্লেষকেরা বলছেন যে গত কয়েক মাস ধরে এই প্রণালিতে যাতায়াত এমনিতেই সীমিত এবং অত্যন্ত অল্প সংখ্যক জাহাজই এই সংকটের মধ্যে এই বিশেষ জলপথটি ব্যবহার করার সুযোগ পাচ্ছিল।