প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে। বিকেল ৩টায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বাংলাদেশে স্বাধীনতার পর থেকে প্রায় সব জাতীয় বাজেটই বৃহস্পতিবার উপস্থাপিত হয়েছে। ব্যতিক্রম ছিল শুধু ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট, যা সংসদে তোলা হয়েছিল সোমবার। ফলে অনেকেই জানতে চান, বাজেট ঘোষণার জন্য বৃহস্পতিবারকেই কেন বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান ড. আব্দুল মজিদ বলেন, বাজেট প্রণয়ন ও উপস্থাপনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনেক পরিশ্রম করতে হয়। তাই বৃহস্পতিবার বাজেট উপস্থাপন করলে পরের দুই দিন, অর্থাৎ শুক্রবার ও শনিবার ছুটি পাওয়া যায়। একই সঙ্গে এই দুই দিনে বাজেট বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনারও সুযোগ থাকে।
তিনি আরো বলেন, এর পেছনে আরো কিছু কারণ থাকতে পারে। বৃহস্পতিবার বাজেট ঘোষণার পর যেহেতু পরের দুই দিন সরকারি ছুটি থাকে, তাই এ সময় কেউ সহজে আইনি কোনো পদক্ষেপ নিতে পারে না।
একই সঙ্গে কেউ চাইলে আগেভাগে পণ্য কিনে মজুত করা বা শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার মতো কাজও করতে পারে না।
ড. আব্দুল মজিদ জানান, বাজেট উপস্থাপনের পরের সপ্তাহে সম্পূরক বাজেট পাস করতে হয়। সংসদ সদস্যরা যাতে বাজেটের বিভিন্ন বিষয় ভালোভাবে পড়াশোনা ও বুঝতে পারেন, সে জন্যও কিছুটা সময় প্রয়োজন হয়। বৃহস্পতিবার বাজেট ঘোষণা করলে তারা অতিরিক্ত দুই দিন সময় পান।
জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের সম্ভাব্য বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে বাজেটে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি থাকতে পারে।