বাজেটে সংস্কৃতি খাতে বড় চমক, দাম কমবে বাদ্যযন্ত্র ও ক্যামেরার

নতুন সরকারের প্রথম বাজেটে সুখবর মিলেছে সংস্কৃতি খাতেও। এবার সংস্কৃতি খাতে বিভাগীয় ও জেল পর্যায়ে ক্রিয়েটিভ হাব তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন প্রকল্পের পাশাপাশি বাদ্যযন্ত্র ও শুটিং ক্যামেরার দাম কমার সুখবর জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকালে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনে তিনি জানান, এবার সংস্কৃতি খাতে বড় চমক থাকছে।

অনুমোদিত বাজেটে পূর্বাচলে ১৬০ একরের বিশাল ক্রিয়েটিভ হাব তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এটি হবে দেশের শিল্পী, সংগীতজ্ঞ ও সৃজনশীল মানুষের মিলনস্থল। এখানে আধুনিক স্টুডিও, আর্ট গ্যালারি এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থাকবে। এছাড়া প্রতিটি বিভাগ ও জেলায় পর্যায়ক্রমে আঞ্চলিক ক্রিয়েটিভ হাব গড়ে তোলা হবে। জিডিপিতে সৃজনশীল খাতের অবদান ১ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করাই এর লক্ষ্য।

এদিকে নতুন বাজেটে দাম কমবে বাদ্যযন্ত্র ও প্রফেশনাল ক্যামেরার। গিটার, পিয়ানো ও ভায়োলিনের মতো বাদ্যযন্ত্রের ওপর থাকা ৫ শতাংশ রেগুলেটরি ডিউটি বা শুল্ক সম্পূর্ণ তুলে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া চলচ্চিত্র ও ডিজিটাল কন্টেন্ট তৈরির উচ্চ প্রযুক্তির ক্যামেরার আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে মাত্র ৫ শতাংশ করা হয়েছে। এর ফলে সিনেমা, নাটক ও মিউজিক ভিডিও তৈরির খরচ উল্লেখযোগ্য হারে কমবে।

এদিকে ইউটিউব ও ফেসবুকে কন্টেন্ট তৈরি করে আয় করছেন বর্তমান প্রজন্মের হাজারো তরুণ। তাদের উৎসাহিত করতে ডিজিটাল কন্টেন্ট ক্রিয়েটর এবং ফ্রিল্যান্সারদের সেবার ওপর থাকা ১৫ শতাংশ ভ্যাট সম্পূর্ণ মওকুফ করা হয়েছে। এই সুবিধা ২০৩৫ সাল পর্যন্ত বজায় রাখা হবে।

তাছাড়া দেশের চলচ্চিত্র শিল্পকে বিশ্বমানের করতে একটি আন্তর্জাতিক মানের টেকনিক্যাল স্টুডিও গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ওটিটি কন্টেন্ট নির্মাতাদেরও বড় সুবিধা দেবে এ স্টুডিও। ‘ক্রিয়েটেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডকে বিশ্ববাজারে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় সরকার। সে লক্ষ্যে চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে প্রাথমিক পর্যায়ে ৩০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।