বিশ্বকাপের মঞ্চে ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু সেই স্বপ্ন মাঠে নামার আগেই থেমে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা পেয়ে শেষ পর্যন্ত দেশে ফিরতে হয়েছে সোমালিয়ান রেফারি ওমর আবদুলকাদির আরতানকে। যদিও বিমানবন্দরে নেমেই তিনি পেলেন এক নায়কোচিত সংবর্ধনা।
বুধবার সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিশুতে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দর ও স্টেডিয়ামে জড়ো হন হাজারো সমর্থক। পতাকা, ছবি আর উচ্ছ্বাসে ভরে ওঠে পুরো এলাকা।
নিজ দেশে ফিরে এসে আরতান বলেন, ‘যা হয়েছে তা নিয়তি। ফিফার সহযোগিতার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। সোমালিয়ার তরুণদের বলতে চাই আশা হারিও না।’
তিনি আরও বলেন, ‘সোমালিয়া আমাদের দেশ। ভালো হোক বা খারাপ এটাই আমার ঘর। আমি আর কোথাও থাকতে চাই না।’
স্টেডিয়ামে তাকে ‘গেস্ট অব অনার’ হিসেবে সম্মান জানানো হয় একটি স্থানীয় ম্যাচে। সেখানে হাজারো দর্শক করতালি দিয়ে তাঁকে অভিবাদন জানান। অনেক সমর্থক বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তে তারা হতাশ হলেও আরতানের মর্যাদা তাতে কমেনি।
সোমালিয়ার প্রধানমন্ত্রী হামজা আবদি বাররেও আরতানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, তিনি ‘লাখো মানুষের হৃদয় জয় করেছেন’ এবং দেশের তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণায় পরিণত হয়েছেন।
আরতান ছিলেন ২০২৫ সালের আফ্রিকার বর্ষসেরা রেফারি। গত ৮ বছর ধরে ফিফার রেফারি হিসেবে কাজ করছেন তিনি। ইতিহাসে প্রথম সোমালিয়ান হিসেবে ডাক পেয়েছিলেন বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনার। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি) তাকে দেশটিতে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি।
ঘটনাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগেই এই ঘটনা ফুটবল মহলে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিতর্কও উসকে দিয়েছে।