তিন তালাক ও হিল্লা বিয়ে নিয়ে সমাজে দীর্ঘদিন ধরে নানা ভুল ধারণা, বিভ্রান্তি ও অপব্যাখ্যা প্রচলিত রয়েছে। শরিয়তের বিধান সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান না থাকার কারণে অনেকেই হিল্লা বিয়েকে বৈধ বা গ্রহণযোগ্য বলে মনে করেন। আবার কেউ কেউ বিষয়টিকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে থাকেন। এ প্রেক্ষাপটে জনপ্রিয় ইসলামি আলোচক ড. মিজানুর রহমান আজহারী হিল্লা বিয়ের শরয়ি বিধান, এর অপব্যবহার এবং ইসলামের প্রকৃত অবস্থান নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, শরিয়তের বিধানকে কৌশলে পাশ কাটানোর জন্য সাজানো বা পূর্বপরিকল্পিত হিল্লা বিয়ে ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
আজহারী উল্লেখ করেন, বিধানের অপপ্রয়োগ নয়, সুন্নাহর সঠিক অনুশীলনের মাধ্যমেই আসুক সমাজ-সংসারের সংস্কার।
শরিয়তের প্রতিটি বিধানই মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত, যা সব যুগে, সব সমাজে মানবকল্যাণ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রণীত। তাই শরিয়তের কোনো বিধানকে অপব্যবহার বা কৌশলে অতিক্রম করার প্রচেষ্টা কোনো প্র্যাকটিসিং মুসলিমের কাজ হতে পারে না।
হাদিসে অভিসম্পাত করা হয়েছে সেই ‘তাহলিল’ বা ‘হিল্লা’ বিবাহকে, যা পূর্বপরিকল্পিতভাবে কেবল প্রথম স্বামীর জন্য নারীকে পুনরায় হালাল করার উদ্দেশ্যে সম্পন্ন করা হয়। এটি একটি কবিরা গুনাহ।
রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, আমি কি তোমাদের ভাড়াতে পাঁঠা সম্পর্কে অবহিত করব না? সাহাবিরা বললেন, অবশ্যই, হে আল্লাহর রাসুল! তিনি বলেন, সে হলো তাহলিলকারী। আল্লাহ তাহলিলকারী এবং যার জন্য তাহলিল করা হয় তাদের উভয়কে অভিশাপ দিয়েছেন। (ইবনে মাজাহ ১৯৩৬)
তবে তিন তালাকের পর, কোনো নারী যদি স্বাভাবিকভাবে অন্যত্র বিবাহ করেন এবং পরবর্তীতে সেই বিবাহ স্বাভাবিক কারণেই বিচ্ছেদে শেষ হয়, তাহলে ইদ্দত শেষে পূর্বের স্বামীর সঙ্গে পুনরায় বিবাহে কোনো বাধা নেই।
অতএব, নিষিদ্ধ হলো হালাল করার উদ্দেশ্যে সাজানো বা পাতানো বিবাহ, স্বাভাবিক বিবাহে বাধা নেই। মহান আল্লাহ সকল প্রকার ফেতনা থেকে আমাদের মুক্ত রাখুন।