এসএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে এনসিপি নেতাকে পিটুনি, উদ্ধারে পুলিশ

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় এসএসসি ব্যবহারিক পরীক্ষা চলাকালে পরীক্ষার্থীদের গালাগাল ও মারধরের অভিযোগে উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক মোহাম্মদ আশরাফকে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনা ঘটেছে। এসময় আশরাফকে  লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে পরীক্ষার্থীরা। ইটের আঘাতে স্কুলের প্রধান শিক্ষক অরুণ চন্দ্র দত্তসহ কয়েকজন শিক্ষক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার পৌর সদরের কাজী শামসুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং কেন্দ্র সচিবের কক্ষে অবরুদ্ধ থাকা ভাঙ্গা উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ককে মোহাম্মদ আশরাফকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।

কেন্দ্র সচিব ও পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সকালে ব্যবহারিক পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগেই এনসিপি নেতা মোহাম্মদ আশরাফ তার হবু স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করেন। একই রুমে পরীক্ষা দিচ্ছিলেন বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সাজিদ ইসলামসহ তার কয়েকজন সহপাঠীরা। তারা এনসিপির নেতাকে তার স্ত্রীকে পরীক্ষায় সহায়তায় করার জন্য প্রতিবাদ শুরু করে। এসময় আশরাফ নিজের দলীয় পরিচয় দিয়ে তার ক্ষমতার অপব্যবহার করেন। এর প্রতিবাদ করায় শিক্ষার্থীদের গালাগালসহ ধাক্কা দেন। এক পর্যায়ে পরীক্ষার্থী সাজিদ ইসলামের গায়ে হাত তোলেন। এর প্রতিবাদে সকল পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেওয়া বন্ধ করে রুম থেকে বেরিয়ে যান।

পরে তারা আশরাফকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপসহ বিক্ষোভ করতে থাকে। পরিস্থিতি বেগতিক হয়ে পড়লে দৌড়ে কেন্দ্র সচিবের কক্ষে আশ্রয় নেন এনসিপির নেতা আশরাফ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ কয়েকজন শিক্ষক এগিয়ে এলে ইটের আঘাতে আহত হন প্রধান শিক্ষকসহ কয়েকজন শিক্ষক।

আহত প্রধান শিক্ষক অরুণ চন্দ্র জানান, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এনসিপির আহ্বায়ক মোহাম্মদ আশরাফের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা শুরু হওয়ার একপর্যায়ে ইটের আঘাতে আহত হয়েছি। পরে পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অবরুদ্ধ আশরাফকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। ঘণ্টাখানেক পর পরিবেশ শান্ত হলে পুনরায় পরীক্ষা শুরু হয়।

ভাঙ্গা থানায় ওসি মিজানুর রহমান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। এনসিপির আহ্বায়ক মোহাম্মদ আশরাফকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়। পরবর্তীতে তাকে তার পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। স্কুল কর্তৃপক্ষ অভিযোগ দিলে বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে আশরাফ গণমাধ্যমের কাছে দাবি করেন, তিনি কেবল হবু স্ত্রীকে পরীক্ষার হলে পৌঁছে দিতে গিয়েছিলেন। সেখানে ছাত্রলীগের কিছু কর্মী, যারা পরীক্ষা দিতে এসেছিল, তারা আমার হবু স্ত্রীকে ইভটিজিং করে। আমি প্রতিবাদ করায় তারা আমার ওপর চড়াও হয়।