ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার অবসান ঘটাতে একটি চুক্তির খসড়া সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের অনুমোদনের কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই চুক্তির প্রেক্ষিতে ইরানে বৃহস্পতিবার রাতের সম্ভাব্য সামরিক হামলার পরিকল্পনা স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান, বাহরাইন, কুয়েত, জর্ডান এবং মিসরসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ চুক্তির বিস্তারিত শর্তাবলী অনুমোদন করেছে। ট্রাম্প জানান, ইরানের নেতৃত্বের ‘সর্বোচ্চ পর্যায়’ থেকে আলোচনার বিষয়টি অনুমোদিত হওয়ার পর তিনি পূর্বনির্ধারিত হামলা ও বোমাবর্ষণের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন। তিনি বলেন, চুক্তির স্থান ও সময় খুব দ্রুতই আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই দাবির বিপরীতে তেহরান থেকে ভিন্ন সুর শোনা যাচ্ছে। ইরানের সংবাদ সংস্থা ‘ফারস’ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তির খসড়া এখনো ইরানের পক্ষ থেকে অনুমোদিত হয়নি। এছাড়া ‘তাসনিম নিউজ’ ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে নাকচ করে দিয়েছে। তাসনিমের মতে, অতীতেও ট্রাম্প এমন ঘোষণা দিয়েছিলেন যা শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয়নি। যতক্ষণ না ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সমঝোতার ঘোষণা দেয়, ততক্ষণ পর্যন্ত ট্রাম্পের বক্তব্যকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই বলে মনে করছে ইরানের গণমাধ্যম।
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে ভয়াবহ সামরিক অস্থিরতা শুরু হয়। এর পাল্টা জবাব হিসেবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিসহ বিভিন্ন স্থাপনায় আক্রমণ চালায়। গত ৮ এপ্রিল একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দীর্ঘ সময় ধরে পর্দার অন্তরালে শান্তি আলোচনা চললেও আগে কোনো চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
বর্তমানে ট্রাম্পের এই আকস্মিক ঘোষণা অঞ্চলটিতে শান্তি ফেরাবে, নাকি আবারও কোনো নতুন সংকটের সূত্রপাত করবে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক কৌতুহল ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।