১৯৩০ সালে ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর থেকে বিগত প্রায় এক শতাব্দীর ইতিহাসে এবারই প্রথম এক নজিরবিহীন ও থমথমে রাজনৈতিক আবহে টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটিই প্রথম ঘটনা, যেখানে কোনো স্বাগতিক দেশ এমন একটি দেশের ফুটবল দলকে নিজেদের মাটিতে স্বাগত জানাচ্ছে, যার সঙ্গে তারা বর্তমানে সরাসরি একটি বিধ্বংসী যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে।
ইরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যৌথ যুদ্ধ এই মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া উৎসবকে এক চরম ভূরাজনৈতিক লড়াইয়ের ময়দানে পরিণত করেছে। ওয়াশিংটন এবং তেহরান, উভয় পক্ষই এই ফুটবল টুর্নামেন্টকে তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক স্বার্থ ও অবস্থান প্রদর্শনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বলে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। তীব্র রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের মধ্যেই লস অ্যাঞ্জেলেসে ইরানের প্রথম ম্যাচ শুরু হওয়ার মাত্র ১০ দিন আগে তাদের খেলোয়াড়দের মার্কিন ভিসা দেওয়া নিশ্চিত করা হয়েছিল।
ইরান ফুটবল দলের বর্তমান অবস্থান ও তাদের লজিস্টিকস নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইনফান্তিনো পরিষ্কার করেন যে, শান্ত থাকার অর্থ এই নয় যে, ফিফা টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারীদের সহায়তায় হাত গুটিয়ে বসে আছে। ইরান দল বর্তমানে তাদের মূল ট্রেনিং ক্যাম্প মেক্সিকোর টিজুয়ানাতে স্থানান্তর করেছে। তারা মেক্সিকো থেকেই বিমানে চড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ম্যাচ খেলতে আসবে এবং খেলা শেষ হওয়া মাত্রই আবার টিজুয়ানার ব্যারাকে ফিরে যাবে।
এই শাটল যাতায়াত ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে ইনফান্তিনো বলেন যে, সবাইকে ফিফার ওপর আস্থা রাখতে হবে যে, তারা পর্দার আড়ালে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন এবং পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছেন। তিনি স্বীকার করেন যে, বিশ্বরাজনীতির এমন অনেক বিষয় আছে, যা ফিফাকে জানানো হয়, আবার অনেক বিষয় আছে, যা তাদের জানানো হয় না। সব যুদ্ধ ও বৈরিতার মধ্যেও ইরান দলকে আমেরিকার মাটিতে খেলতে নিয়ে আসতে পারাটা ফিফার এক বিশাল কূটনৈতিক সাফল্য বলে তিনি মনে করেন।
ইনফান্তিনো রসিকতার ছলে বলেন যে, ফিফা চাঁদে বাস করে না, তারা এই পৃথিবী নামক গ্রহেই বাস করে এবং বাস্তবতার মাটিতে দাঁড়িয়েই তারা সব সময় ইতিবাচক সমাধান খোঁজার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।