গতকাল রাত থেকেই শুরু হয়েছে ফুটবলের 'বিশ্বযুদ্ধ'। বিশ্ব মঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করতে গোটা চার বছর মুখিয়ে থাকেন ফুটবলাররা। তার ব্যতিক্রম নন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ২০০৬ সাল থেকে বিশ্বকাপের প্রতিটি আসরে খেলা এই ফুটবলার নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে হয়ে উঠেছেন শতাব্দীর সেরা খেলোয়াড়দের একজন। ক্যারিয়ারের পুরোটা সময় ক্লাব ফুটবলে চালিয়েছেন রেকর্ড ভাঙা গড়ার খেলা। হাজার গোলের মাইলফলক স্পর্শ করার দৌড়ে কয়েক কদম পিছিয়ে আছেন। বিশ্বকাপ নিয়ে মুখিয়ে থাকলেও বিশ্বমঞ্চে নিজের নামের খুব একটা সুবিচার করতে পারেন না এই পর্তুগিজ মহাতারকা।
১৭ জুন রাত ১১টায় ডি আর কঙ্গোর বিপক্ষে মাঠ দিয়ে নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের মিশনে নামবে পর্তুগিজরা। একটা সময় সমুদ্রে পথে দাপট দেখানো পতুর্গিজরা বিশ্ব ফুটবলে এক আক্ষেপের নাম। দলে নামিদামি ফুটবলার থাকলেও বিশ্বকাপে বেশিদূর এগোতে পারেনি। দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ-খ্যাত এই টুর্নামেন্টে পর্তুগিজদের সর্বোচ্চ সাফল্য আসে ১৯৬৬ সালে। ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হওয়া সেই আসরে তৃতীয় হয়েছিল পর্তুগাল। সাম্প্রতিক সময়ের কথা বললে, দেশটির সবচেয়ে বড় সাফল্য ২০০৬ সালে সেমিফাইনাল খেলা। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের কথা বললে, সেটা রোনালদোর জন্য স্বপ্নের চেয়ে কম কিছু নয়।
তবে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর নেতৃত্বে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে মার্কিন মুল্লুকে পা রাখেন রুবেন দিয়াস, নুনো মেন্ডেস, ব্রুনো ফার্নান্দেজ, বের্নার্দো সিলভা, ভিতিনহারা। মূল পর্বে মাঠে নামার আগে বুধবার রাতে নিজেদের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল পর্তুগাল। ম্যাচটিতে ২-১ গোলের মান বাঁচানোর জয় নিয়ে মাঠ ছাড়লেও সমালোচনার কাটগড়ায় রোনালদোর পারফরম্যান্স। একাধিক সহজ সুযোগ পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ হন এই পর্তুগিজ মহাতারকা। সহজ কয়েকটি সুযোগ পেয়েও সেগুলো গোলে পরিণত করতে না পারায় বিশ্বকাপের আগে তাকে নিয়ে হচ্ছে সমালোচনা। নিন্দুকরা করছেন হাসাহাসি।
যদিও সাধারণত এমন সহজ সুযোগগুলো হাতছাড়া করতে দেখা যায় না রোনালদোকে। তাতে প্রশ্ন উঠে, বিশ্বকাপের আকাশসম চাপ সামলাতে পারছেন না রোনালদো। শুধু দেশ নয়, বিশ্বে জুড়ে থাকা তার কোটি সমর্থক ও সংবাদমাধ্যমের চাপ সবকিছুই তার মাঠের খেলায় প্রভাব ফেলে। বিষয়টি এভাবে ব্যাখ্যা করলেও খুব এটা ভুল হবে না।
সবশেষ ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে রোনালদোর পারফরম্যান্সে চোখ বুলালে সেই চিত্রই প্রতিফলিত হয়। যেখানে তার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসি আর্জেন্টিনাকে ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপ জিতিয়ে তর্ক সাপেক্ষে বনে যান ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা ফুটবলার। অথচ সেই বিশ্বকাপে এমন একাধিক সহজ সুযোগ মিস করেছেন সিআর-সেভেন। পাঁচ ম্যাচ খেলে মাত্র একটি গোলের দেখা পেয়েছেন তিনি। একপর্যায়ে দলের কোচ ফার্নান্দো সান্তোস তার ওপর থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে নক আউটের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাকে শুরুর একাদশে রাখা হয়নি। সেই ম্যাচটি ৬-১ গোলে জিতে নেয় পর্তুগাল। এমনটি মরক্কোর বিপক্ষে সেমিফাইনাল ম্যাচেও শুরুর একাদশে রাখা হয়নি তাকে। শেষ পর্যন্ত সেমিফাইনাল হেরে অশ্রুশিক্ত চোখে আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়েন রোনালদো।
ফুটবল পাড়ায়, আরও একটি গুঞ্জন আছে। রোনালদোকে বল পাস দিতে চান না পর্তুগালের ফুটবলাররা। এটিকে গুঞ্জন বললে ভুল হবে, মাঠের খেলায় সেটার প্রমাণ মিলেছে একাধিকবার। কেন তারা এমন কাজ করে থাকেন, নাইজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি হয়তো তার প্রমাণ।
তবে কোচ রবার্তো মার্তিনেজ রোনালদোর পারফরম্যান্স নিয়ে চিন্তিত নন। নাইজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, 'আমাদের পরিকল্পনা ছিল রোনালদোকে ৪৫ থেকে ৬০ মিনিট খেলানো। ব্যক্তিগত প্রস্তুতির পাশাপাশি দলগত সমন্বয় গড়ে তোলাই ছিল মূল লক্ষ্য। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো-এমন একটি দল তৈরি করা, যারা ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত শক্তিশালী থাকতে পারে। খেলোয়াড়দের মনোযোগ, পরিকল্পনার বাস্তবায়ন এবং কঠোর পরিশ্রমে আমরা সন্তুষ্ট। বিশ্বকাপের জন্য এখন আমরা অনেক ভালোভাবে প্রস্তুত।'