জার্সি গায়ে জড়িয়ে নামাজ আদায় জায়েজ?

বিভিন্ন খেলার জার্সি গায়ে জড়িয়ে নামাজ আদায় করা অনুচিত হলেও এতে নামাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে বলে ফতোয়া দিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট ফুকাহায়ে কেরাম বা ইসলামি আইনবিদেরা। তবে এই ধরনের পোশাকে কোনো জীবজন্তুর প্রতিকৃতি থাকলে সেই নামাজ মাকরুহ বা ত্রুটিপূর্ণ হিসেবে গণ্য হবে। 

ফুকাহায়ে কেরামের মতে জার্সির গায়ে থাকা কোনো প্রাণীর ছবি যদি পুরোপুরি স্পষ্ট ও দৃশ্যমান হয়, তবে তা পরিধান করে নামাজ আদায় করা অনুচিত এবং এটি নামাজের পবিত্রতা নষ্ট করে। কিন্তু জার্সিতে থাকা ছবি বা লোগো যদি কোনো কারণে একদম অস্পষ্ট কিংবা চোখের আড়ালে থাকে, তবে সেই পোশাক পরে নামাজ আদায় করলে তা মাকরুহ বা অপছন্দনীয় হবে না।

ইসলামি শরিয়তের অকাট্য বিধান অনুযায়ী যেকোনো জীবন্ত প্রাণীর ছবিযুক্ত পোশাক ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে মানুষের তৈরি পোশাক বা জার্সিতে যদি কোনো প্রাণহীন বস্তু যেমন গাছপালা, পাহাড় বা নদীর ছবি থাকে, তবে তা ধর্মীয়ভাবে বৈধ এবং তা পরে ইবাদত করায় কোনো বাধা নেই।

ইসলামি আইনবিদেরা আরও উল্লেখ করেছেন যে প্রচলিত অনেক খেলাই পরোক্ষভাবে জুয়া, বিপুল অর্থ ও সময়ের অপচয় এবং অনৈসলামিক সংস্কৃতির সাথে যুক্ত থাকে, যা বর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য আবশ্যক। মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য নামাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ফরজ বিধান, যা যেকোনো পরিস্থিতিতে সময়মতো আদায় করা বাধ্যতামূলক।

নামাজের মতো পবিত্র ইবাদতের সময় পোশাকে শালীনতা ও সৌন্দর্য বজায় রাখার ওপর ইসলাম বিশেষভাবে তাগিদ দিয়েছে।

ইসলামি শরিয়তে, প্রাণীর ছবিযুক্ত পোশাক পরা হারাম। তবে প্রাণহীন বস্তু যেমন-- বৃক্ষ, পাহাড়, ঝরনা ইত্যাদির ছবি বৈধ। (আল-বাহরুর রায়েক: ২/২৯, মেরকাতুল মাফাতিহ: ৪৪৮৯)
 
মহান আল্লাহ বলেন, يَا بَنِي آدَمَ خُذُواْ زِينَتَكُمْ عِندَ كُلِّ مَسْجِدٍ ‘হে বনি-আদম! তোমরা প্রত্যেক নামাজের সময় সাজসজ্জা পরিধান করে নাও।’ (সুরা আরাফ: ৩১)