পূর্ব সুন্দরবনে অপহরণের তিন দিন পরে বনদস্যুদের কবল থেকে ছাড়া পেয়েছেন বনবিভাগের বেতার চালকসহ ৩ জন। শুক্রবার (১২ জুন) তারা ফিরে আসেন। এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনী সুন্দরবনের কালামিয়া এলাকা থেকে দুবলা ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির বেতার চালক ফরিদুলসহ দুই জেলেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় বন বিভাগ শরণখোলা থানায় একটি জিডি করেছে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের জেলেপল্লী দুবলা ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির বেতারচালক মো. ফরিদুল ইসলাম জামালপুরের বাড়ি ছুটি কাটিয়ে গত মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে পাথরঘাটার পদ্মা স্লুইস থেকে দুবলা অফিসে যাওয়ার জন্য তোফাজ্জেল সরদারের ট্রলার যোগে রওনা হন। ওই ট্রলারে মাঝি তোফাজ্জেলের সহকারী মো. আলকাস ছিলেন। ট্রলারটি সেদিন দিন বিকেল ৫টার দিকে সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের কালামিয়া এলাকা অতিক্রমের সময় বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনী ট্রলারটিতে হামলা করে বেতারচালক ফরিদুলসহ ট্রলার আরোহী তিনজনকে অপহরণ করে সুন্দরবনের অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখে।
এদিকে, বনকর্মী বেতারচালকের কোন সন্ধান না পেয়ে শরণখোলা ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার মো. খলিলুর রহমান বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে শরণখোলা থানায় একটি জিডি করেছেন। তবে সর্বশেষ শুক্রবার ভোর রাতে বনদস্যুরা বনকর্মী ফরিদুলসহ তিনজনকে ছেড়ে দিয়েছে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করীম চৌধুরী বলেন, তিন দিন নিখোঁজ থাকার পরে শুক্রবার সকালে দুবলা অফিসের বেতারচালক দুবলায় ফিরে এসেছেন। দস্যুরা শুক্রবার ভোর রাতে সুন্দরবনের আমবাড়ীয়া এলাকায় চোখ বেঁধে বেতারচালকসহ তিনজনকে ছেড়ে দিয়ে যায়। নিখোঁজ বনকর্মীর সন্ধানে তিনদিন ধরে সুন্দরবনে ড্রোন উড়িয়ে ব্যাপক তল্লাশি কার্যক্রম চালানো হয়। দুবলা যাওয়ার পথে ৯ জুন বিকেলে সুন্দরবনের কালামিয়া এলাকায় বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনী বেতারচালক ফরিদুলসহ ট্রলারমাঝি ও তার সহকারীকে অপহরণ করে আটকে রেখেছিলো। বনকর্মী পরিচয় পেয়ে দস্যুরা কোন মুক্তিপণ দাবি করেনি বলে ডিএফও জানান।