হঠাৎ বৃষ্টিতে রাজধানীতে স্বস্তি, কোথাও ভোগান্তি

দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে বর্ষাবাহী মৌসুমি বায়ু

মৌসুমি বায়ু বিলম্বে এলেও ইতিমধ্যে দেশের প্রায় সর্বত্রই ছড়িয়ে পড়েছে। বর্ষাবাহী এ বায়ুর পুরোপুরি সক্রিয় হতে সময় লাগবে। তবে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে যে বৃষ্টি শুরু হয়েছে, তা চলবে কয়েক দিন। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ হয়ে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। পাশাপাশি মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে দুর্বল থেকে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে। এ কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টিপাতের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

সারা দিন রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়ার পর গতকাল শুক্রবার বিকালে হঠাত্ করেই রাজধানীর আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায়। এরপর ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয় তুমুল বৃষ্টি, যা অনেক স্থানে মুষলধারে বর্ষণে রূপ নেয়। কোথাও কোথাও বজ্রপাতও হয়েছে। ভারী বর্ষণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার রাস্তায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। হঠাত্ বৃষ্টিতে কর্মস্থল থেকে ফেরা ও বাইরে থাকা মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। অনেককে আশ্রয়ের খোঁজে দোকানপাট ও বিভিন্ন স্থাপনার নিচে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। রাজধানীর ঝুম বৃষ্টি তাপ কমিয়েছে। বৃষ্টির পর তাপমাত্রা প্রায় ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে গেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল ইসলাম বলেন, বেলা ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা এই সময়ে রাজধানীতে ৪৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এতে তাপমাত্রা অনেকটাই কমে গেছে। কোনো এলাকায় ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে, তাকে ভারী বৃষ্টি বলা হয়। নাজমুল ইসলাম জানান, গতকাল দুপুরের দিকে যখন প্রচণ্ড রোদ ছিল, তখন রাজধানীর তাপমাত্রা ছিল ৩৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবার বৃষ্টির পর সন্ধ্যা ৬টার দিকে এ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ২৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।অর্থাত্ মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে তাপমাত্রা প্রায় ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে গেছে।

বেসরকারি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ সংস্থা বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম জানিয়েছে, আগামী ১৯ বা ২০ জুনের মধ্যে মৌসুমি বায়ু দেশের ওপর পুরোপুরি সক্রিয় হতে পারে। সর্বোচ্চ সক্রিয় হওয়ার পর দেশের বরিশাল, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের কিছু কিছু জেলায় দফায় দফায় ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এই অতিভারী বর্ষণের ফলে নিচু এলাকাগুলোতে সাময়িক জলবদ্ধতা তৈরি হতে পারে কিংবা কিছু এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর পাশাপাশি দেশের পাহাড়ি জেলাগুলোতে বিপজ্জনক পাহাড়ধসের আশঙ্কাও রয়েছে।