ভারত থেকে বাংলাদেশে ‘পুশ ইন’ বা জোরপূর্বক অনুপ্রবেশ বন্ধের দাবিতে দিল্লিকে ইতোমধ্যে ১৩টি কূটনৈতিক চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ বলে তথ্য জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
শুক্রবার (১২ জুন) ফরিদপুরের সালথা প্রেসক্লাবের নবনির্মিত ভবনের উদ্বোধন ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সীমান্ত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে এবং ভারত থেকে যেসব পুশ ইন করার চেষ্টা হচ্ছে, সেগুলো প্রতিহত করা হচ্ছে। তিনি জানান, এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে দিল্লির কাছে ১৩টি চিঠি পাঠানো হয়েছে।
শামা ওবায়েদ বলেন, ভারতের থেকে যেসব পুশ ইন করার চেষ্টা করা হচ্ছে, সেটা বিজিবি প্রতিহত করছে। ইতিমধ্যে আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ১৩টা চিঠি গিয়েছে দিল্লিতে, এই পুশ ইন বন্ধ করার জন্য। যেকোনো দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের অবৈধ বা তাদের অবৈধ নাগরিকদের ফেরত নেওয়ার জন্য বা ফেরত পাঠানোর জন্য একটা সুস্পষ্ট নীতিমালা আছে। একটা মেকানিজম আছে। আমরা আশা করব যে ভারত সরকার সে মেকানিজম, সে নীতিমালা অবলম্বন করবে।
তিনি আরও বলেন, যদি কোনো বাংলাদেশি ভারতে অবৈধভাবে থেকে থাকে, তারা সেই নীতিমালা বা মেকানিজম ব্যবহার করে বৈধ পথে আমাদের সঙ্গে কূটনীতির মাধ্যমে সেই বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠাবে। একইভাবে বাংলাদেশে যদি কোনো অবৈধ ভারতীয় থেকে থাকে, তাদেরও আমরা সেই নীতিমালা, মেকানিজম ব্যবহার করে ফেরত পাঠাব। রাতের অন্ধকারে পুশ ইন করা বা এ ধরনের কাজ থেকে ভারত সরকার বিরত থাকবে বলে আমরা আশা করি। কূটনীতির মধ্য দিয়ে আমরা এটা সমাধান করব।
অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে মূলধারার গণমাধ্যমের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও তথ্যপ্রবাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে বিভিন্ন মাধ্যমে ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ার প্রবণতা উদ্বেগজনক।
তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও প্রযুক্তির অপব্যবহার করে ব্যক্তি, রাজনৈতিক দল কিংবা ভিন্নমতের মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এসব অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সরকার সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার করা উচিত নয়। দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে সত্য তথ্য জনগণের কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।