প্রযুক্তি দুনিয়ার সবচেয়ে আলোচিত ব্যক্তিত্ব ইলন মাস্ক এখন ইতিহাস গড়েছেন। স্পেসএক্স, টেসলা ও এক্সের মালিক মাস্ক হয়ে উঠেছেন বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়ন ডলার সম্পদের মালিক। শুক্রবার (১২ জুন) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ট্রিলিয়ন ডলার মানে এক হাজার বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ ১ এর পর ১২টি শূন্য। বাংলায় যাকে বলা যায় প্রায় এক লাখ কোটি ডলার।
ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবরে মাস্ক প্রথমবারের মতো অর্ধ-ট্রিলিয়ন ডলার (৫০০ বিলিয়ন) নিট সম্পদের মাইলফলক ছুঁয়েছিলেন। এর এক মাস পরেই টেসলার শেয়ারহোল্ডাররা তার জন্য এক অসাধারণ পারিশ্রমিক প্যাকেজ অনুমোদন করে, যার মূল্য এক ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল।
কিন্তু আসল পরিবর্তনটা আসে ২০২৬ সালের জুনে। তার রকেট কোম্পানি স্পেসএক্স (যার অধীনে এক্স, গ্রোক ও স্টারলিংকও রয়েছে) পাবলিক কোম্পানিতে রূপান্তরিত হওয়ার পর মাস্কের সম্পদ বিলিয়ন থেকে সরাসরি ট্রিলিয়ন ডলারের স্তরে পৌঁছে যায়।
শুধু টাকার অঙ্কেই নয়, মাস্ককে নিয়ে আলোচনা হয় তার সাহসী স্বপ্ন ও বিতর্কিত মতামতের জন্যও। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি নিয়মিত মানবজাতির ভবিষ্যৎ, প্রযুক্তি, পরিবেশ থেকে শুরু করে রাজনীতি সবকিছু নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোয় তার রাজনৈতিক সক্রিয়তাও বেড়েছে। ২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জয়ী হতে সাহায্য করার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এতে অনেক বিনিয়োগকারী অসন্তুষ্ট হয়েছেন। তার এক্স প্ল্যাটফর্ম কীভাবে জনমত গঠনে প্রভাব ফেলছে, সে নিয়ে বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাজনীতিবিদদের সমালোচনারও শেষ নেই।
তবুও যারা মাস্কের ভক্ত তারা বলেন, তিনি শুধু ধনী নন, তিনি মানুষের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিচ্ছেন। মঙ্গল গ্রহে মানুষ পাঠানো থেকে শুরু করে বিদ্যুৎচালিত গাড়ি ও স্যাটেলাইট ইন্টারনেট—তার কোম্পানিগুলো প্রতিনিয়ত দুনিয়া বদলে দিচ্ছে।
ইলন মাস্কের এই যাত্রা দেখিয়ে দিচ্ছে, সাহস, ঝুঁকি নেওয়া ও অবিরাম উদ্ভাবন কতটা বড় সম্পদ তৈরি করতে পারে।