চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে একটি আবাসিক হোটেল থেকে মো. ইলিয়াস কাজী (৬৫) নামে এক বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে উপজেলার মাতৃমায়া আবাসিক হোটেলের একটি কক্ষের দরজা ভেঙে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
পরে চাঁদপুর থেকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এসে মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করে। নিহত ইলিয়াস কাজী চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৫ নম্বর গুপ্টি ইউনিয়নের কাজীবাড়ির মৃত আদম আলী কাজীর ছেলে।
নিহতের ছেলে মাহদী হাসান কাজী জানান, তার বাবা গত ৮ মে থেকে নিখোঁজ ছিলেন। আত্মীয়-স্বজনের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় ১২ জুন ফরিদগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়, যার নম্বর ৬১৮। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে হাজীগঞ্জে একটি অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধারের খবর দেখে তারা থানায় এসে মরদেহটি শনাক্ত করেন।
মাতৃমায়া আবাসিক হোটেলের মালিক ফারুক হোসেন লিটন জানান, ১২ জুন সন্ধ্যায় ইলিয়াস কাজী হোটেলে ওঠেন। পরদিন দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত কক্ষের দরজা বন্ধ থাকায় এবং বারবার ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করেন।
হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল মান্নান বলেন, হোটেল কর্তৃপক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কক্ষের দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাজীগঞ্জ সার্কেল) মুকুর চাকমা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ইলিয়াস কাজী কীটনাশক পান করে মারা গেছেন। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এ ঘটনায় হাজীগঞ্জ থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এদিকে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইবনে আল জায়েদ হোসেন তাৎক্ষণিকভাবে মাতৃমায়া আবাসিক হোটেলটি বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।