একরাশ স্বপ্ন নিয়ে আরও একটি বিশ্বকাপে মিশন শুরুর অপেক্ষায় ইউরোপের পরাশক্তি জার্মানি। হিউস্টনে 'ই' গ্রুপের ম্যাচে ইউরোপের পাওয়ার হাউজ জার্মানির প্রতিপক্ষ ক্যারিবীয় দীপপুঞ্জের ছোট্ট দেশ কুরাসাও। ম্যাচটি মাঠে গড়াবে আজ রাত ১১টায়।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম সফল দল জার্মানি। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা এবার ২০২৬ বিশ্বকাপে পঞ্চম শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে। কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যানের অধীনে নতুন উদ্যমে গড়া দলটি তাদের মিশন শুরু করবে যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া কুরাসাওয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে।
'ই' গ্রুপে জার্মানির অন্য প্রতিপক্ষ আইভরিকোস্ট ও ইকুয়েডর। বিশ্বকাপে প্রথম বারের মতো মুখোমুখি হতে যাচ্ছে জার্মানি ও কুরাসাও। একদিকে বিশ্বকাপজয়ী ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ জার্মানি, অন্যদিকে ছোট্ট ক্যারিবীয় দ্বীপদেশ কুরাসাও। দুই ভিন্ন বাস্তবতার এই লড়াই ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ বাড়িয়েছে।
২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়ার হতাশা ভুলে এবার ঘুরে দাঁড়াতে চায় জার্মানরা। জামাল মুসিয়ালা, ফ্লোরিয়ান উইর্টজ, জশুয়া কিমিচ ও কাই হাভার্টজদের নিয়ে গড়া দলটিকে অনেকেই শিরোপার অন্যতম দাবিদার মনে করছেন। তরুণ শক্তি, গতি ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে গড়া এই দল বিশ্বকাপ পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন দেখছে।
ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে জার্মান কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যান বলেন, 'ছোট দল বলে কাউকে অবহেলা করার সুযোগ নেই। বিশ্বকাপে প্রতিটি ম্যাচই কঠিন।' অধিনায়ক কিমিচও সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, 'আমাদের লক্ষ্য ভালো ফুটবল খেলে তিন পয়েন্ট অর্জন করা।'
অন্যদিকে কুরাসাও কোচ ডিক অ্যাডভোকোট এটিকে দেশের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মুহূর্তগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অধিনায়ক কুকো মার্টিনার বিশ্বাস, বিশ্বকাপ এমন একটি মঞ্চ যেখানে এক রাতেই গল্প বদলে যেতে পারে। কাগজে-কলমে জার্মানি স্পষ্ট ফেভারিট হলেও বিশ্বকাপের মঞ্চে কোনো কিছুই নিশ্চিত নয়। তাই আত্মবিশ্বাসী সূচনা করতে চায় জার্মানি, আর কুরাসাও স্বপ্ন দেখছে ইতিহাস গড়ার।
চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানির নতুন আশা এখন তরুণ তারকা জামাল মুসিয়ালা। মাত্র ২৩ বছর বয়সেই তিনি হয়ে উঠেছেন দলের সবচেয়ে বড় আস্থার প্রতীক। দীর্ঘ চোট কাটিয়ে বিশ্বকাপে ফিরে একটাই লক্ষ্য-জার্মানিকে আবারও বিশ্বসেরার আসনে বসানো। বায়ার্ন মিউনিখের এই সৃজনশীল মিডফিল্ডার তার দুর্দান্ত ড্রিবলিং, গোল করার সামর্থ্য ও খেলার গতি নিয়ন্ত্রণের দক্ষতায় ইউরোপের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
জার্মানির জার্সিতে ৪২ ম্যাচে ৯ গোল করা মুসিয়ালা এখন কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যানের পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দু। মুসিয়ালা জার্মান সমর্থকদের কাছে তিনি এখন শুধু একজন ফুটবলার নন, বরং ভবিষ্যতের স্বপ্ন ও আশার প্রতীক। তার পায়ের জাদুই হতে পারে জার্মানির বিশ্বকাপ মিশনের সবচেয়ে বড় শক্তি।