দুর্নীতি ও পাসপোর্ট জালিয়াতির মামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
রোববার (১৮ জুন) বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির উপপরিচালক (মিডিয়া) আকতারুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, দুদকের দায়ের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইন্টারপোলের সহযোগিতায় বেনজীর আহমেদকে ১২ জুন দুবাই থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইন্টারপোলের কাছে পাঠানো আবেদনের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে সরকার।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে বর্তমানে ছয়টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় ১৪ কোটি ৬২ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে এবং বিচার কার্যক্রম চলছে। বাকি পাঁচটি মামলার তদন্ত এখনো চলমান, যেখানে প্রায় ৭৬ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, সরকারি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তিনি জালিয়াতির মাধ্যমে একাধিক বেসরকারি পাসপোর্ট গ্রহণ করেছিলেন এমন অভিযোগও মামলার অংশ হিসেবে তদন্তে রয়েছে।
দুদক জানায়, আদালতের নির্দেশে তার ও পরিবারের নামে থাকা স্থাবর–অস্থাবর সম্পদ ইতোমধ্যে জব্দ এবং ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ফ্ল্যাট, জমি, কোম্পানির শেয়ার, ব্যাংক হিসাব ও সঞ্চয়পত্র।
দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।