লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় এক আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি অবস্থানে নেমেছে বিএনপির দুটি গ্রুপ। ওসির অপসারণ দাবিতে এক পক্ষ ইতোমধ্যে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও সংবাদ সম্মেলন করেছে। অন্যপক্ষ পাল্টা কর্মসূচি দিয়ে এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
দুইপক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গন।
দুটি গ্রুপের একটির নেতৃত্বে রয়েছেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুল। অপরটির নেতৃত্বে রয়েছেন কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম। সম্পর্কে তারা চাচাতো ভাই। দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় রাজনীতিতে তাদের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে রয়েছে। সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া নিয়েও তাদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যায়।
জানা গেছে, গত ৬ জুন রাতে রংপুর শহর থেকে কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও আদিতমারী সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আজিজার রহমানকে নাশকতার একটি মামলায় গ্রেপ্তার করে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ। মামলাটির এজাহারে তার নাম রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর তাকে থানায় আনা হলে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম ওসিকে ফোন করে গ্রেপ্তারের কারণ জানতে চান। এ সময় তাকে জানানো হয় যে তিনি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। এরপর থেকেই ওসির সঙ্গে বিএনপির ওই গ্রুপের দূরত্ব তৈরি হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।
এদিকে একই মামলায় গত বুধবার রমজান আলী নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়কপন্থি নেতারা দাবি করেন, রমজান আলী গোড়ল ইউনিয়ন মৎস্যজীবী দলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক। তার গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করে উপজেলা বিএনপির একটি অংশ। কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আমিনুল ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে আমিনুল ইসলাম অভিযোগ করেন, প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে তাদের গ্রেপ্তার না করে বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি কালীগঞ্জ থানার ওসি আবু বক্কর সিদ্দিকের অপসারণ দাবি করে ১২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন। অন্যথায় বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেন তিনি। তবে এ বিষয়ে জেলা বা কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে, পরে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন নেতাদের জানানো হবে।
অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ নেতা আজিজার রহমানকে গ্রেপ্তারের পর ওসির অপসারণ দাবিতে বিএনপির একাংশের আন্দোলনের প্রতিবাদে রোববার দুপুরে কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে এমপি বাবুল সমর্থিত গ্রুপ। এ সময় বিক্ষোভ মিছিলও অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শামসুজ্জামান সবুজ বলেন,
নাশকতার মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আজিজার রহমানকে গ্রেপ্তার করায় ওসির বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম। আত্মীয়তার সম্পর্কের কারণে তিনি প্রশাসনের কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে দলের নাম ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ পুনর্গঠন ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের বলি হচ্ছেন কালীগঞ্জ থানার ওসি বলে মন্তব্য করছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি স্বীকার করেন যে আজিজার রহমান তার আত্মীয়। তবে গ্রেপ্তারের দিন ওসিকে ফোন করেছিলেন কি না—এ প্রশ্নের সরাসরি উত্তর এড়িয়ে যান।
কালীগঞ্জ থানার ওসি আবু সিদ্দিক বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা আজিজার রহমান নাশকতার মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম ফোন করে গ্রেপ্তারের কারণ জানতে চান। গ্রেপ্তার ব্যক্তি তার নিকটাত্মীয় হওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ হতে পারেন। তবে আমরা সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি। অভিযুক্ত ব্যক্তি কার আত্মীয়, সেটি আমাদের বিবেচ্য বিষয় নয়।