উমরাহ পালনে গেলেন ‘নগদ ইসলামিক’ ক্যাম্পেইনের ৫ বিজয়ী

মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’-এর শরিয়াহভিত্তিক ডিজিটাল আর্থিক সেবা ‘নগদ ইসলামিক’-এর বিশেষ ক্যাম্পেইনে উমরাহ প্যাকেজ বিজয়ী পাঁচজন সৌভাগ্যবান গ্রাহক পবিত্র উমরাহ পালন করতে গিয়েছেন। বাংলাদেশ সময় আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল ১০টা ১০ মিনিটে তারা জেদ্দায় অবতরণ করেন।

​মঙ্গলবার (১৬ জুন) ভোর ৩টা ১৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তারা জেদ্দার উদ্দেশ্যে রওনা হন। এই পাঁচ বিজয়ীর উমরাহ পালনের যাবতীয় ব্যয়ভার ‘নগদ ইসলামিক’-এর পক্ষ থেকে বহন করা হচ্ছে।

​উমরাহ যাত্রার এই বিশেষ ক্যাম্পেইনটিতে গ্রাহকদের সম্পৃক্ততা ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। গোটা রমজান জুড়ে চলা ক্যাম্পেইনের নিয়ম অনুযায়ী, নগদ ইসলামিক ওয়ালেট ব্যবহারকারীরা ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি লেনদেন বাদে অন্যান্য মাধ্যমে ন্যূনতম তিন হাজার টাকা লেনদেন করেই এই উমরাহ প্যাকেজ জেতার সুযোগ পেয়েছিলেন। দেশজুড়ে লাখো গ্রাহকের মধ্য থেকে স্বতঃস্ফূর্ত লেনদেনের শর্ত পূরণ করে এই পাঁচজন ভাগ্যবান বিজয়ী নির্বাচিত হন।

​বিজয়ীরা হলেন – ঢাকার অটোরিকশাচালক মো. জুবায়ের হোসেন, ঢাকার কাফরুল এলাকার রাজমিস্ত্রি মো. শাহজাহান, লালমনিরহাটের কৃষক মো. মানিক, খুলনার চা বিক্রেতা আলী আকবর শেখ এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঠিকাদার মো. রেদোয়ান হোসেন।

ওমরার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে মো. জুবায়ের হোসেন বলেন, “অটোরিকশা চালিয়ে সংসার চালানোই যেখানে হিমশিম খেতে হয়, সেখানে উমরাহ করার স্বপ্ন দেখাটা আমার জন্য বিলাসিতার মতোই ছিল। নগদের এই উদ্যোগের কথা শুনে প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারিনি। আল্লাহ এই অযোগ্য বান্দাকে কবুল করেছেন – নগদের কারণে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় চাওয়াটা পূরণ হচ্ছে। তাদের জন্য আমার হৃদয়ের গভীর থেকে দোয়া রইল।”

​আরেক বিজয়ী লালমনিরহাটের মো. মানিক বলেন, “দিনভর রোদ-বৃষ্টিতে মাঠে কাজ করি, কখনো ভাবিনি এই পরিশ্রমে অর্জিত আয় দিয়ে নগদে লেনদেন করে পবিত্র কাবা শরিফ দেখার সুযোগ পাব। পরিবারের সামর্থ্য ছিল না এত খরচ করার। নগদ আমার মতো সাধারণ মানুষের সেই স্বপ্নকে বাস্তব করে দিয়েছে। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা আমার নেই।”

এর আগে এই পাঁচজন বিজয়ীর ওমরা আয়োজনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পর সোমবার নগদ অফিসে ছোট্ট একটি আয়োজনের মাধ্যমে তাদের কাগজপত্র বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এসময় বাংলাদেশ ব্যাংক নিযুক্ত নগদের প্রশাসক মোতাসিম বিল্লাহ বলেন, “সমাজের নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য পবিত্র উমরাহর এমন সুযোগ করে দিতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। গ্রাহকদের জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্বপ্ন পূরণে অংশীদার হতে পারা অবশ্যই গৌরবের।”

তিনি বলেন, “নগদ ইসলামিক শুধু একটি লেনদেনের মাধ্যম নয়, বরং গ্রাহকদের ধর্মীয় অনুভূতি ও আবেগের প্রতি শ্রদ্ধাশীল একটি প্ল্যাটফর্ম। এই পাঁচজন ধর্মপ্রাণ মানুষ যখন পবিত্র কাবা শরিফ তাওয়াফ করবেন, সেই আনন্দের অংশীদার পুরো নগদ পরিবার। আগামীতেও আমাদের গ্রাহকদের জন্য এই ধরণের আধ্যাত্মিক ও কল্যাণকর উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।”

​সম্পূর্ণ ইসলামিক শরিয়াহ বোর্ডের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ‘নগদ ইসলামিক’ অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে গ্রাহকেরা কোনো প্রকার সুদ ছাড়াই তাদের কষ্টার্জিত অর্থ ডিজিটালি লেনদেন করতে পারছেন।