রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, স্থানীয়দের বিক্ষোভ

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের কুতুপালং ১ নম্বর ইস্ট ও ওয়েস্ট রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন লম্বাশিয়া গ্রামের তিন শতাধিক পরিবারের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল ৯টা থেকে প্রায় আড়াই ঘণ্টাব্যাপী চলা কর্মসূচিতে সহস্রাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন। 
বিক্ষোভকারীরা কুতুপালং ক্যাম্পের প্রধান প্রবেশমুখে অবস্থান নিয়ে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনর্বহালের দাবি জানান। এ সময় ক্যাম্পে কর্মরত বিভিন্ন এনজিও ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মকর্তাদের বহনকারী কয়েকটি যানবাহন সাময়িকভাবে আটকে দেওয়া হলে কিছু সময়ের জন্য স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সোমবার (১৫ জুন) কোনো পূর্বঘোষণা বা লিখিত নোটিশ ছাড়াই লম্বাশিয়া গ্রামের তিন শতাধিক পরিবারের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এতে প্রায় দেড় হাজার মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় পানির মোটর বন্ধ হয়ে যায়, মোবাইল ফোন চার্জ দিতে সমস্যা দেখা দেয় এবং পরিবারগুলোকে রাত কাটাতে হয় অন্ধকারে।

লম্বাশিয়া গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, আমরা উখিয়া পল্লীবিদ্যুৎয়ের বৈধ গ্রাহক এবং আমাদের কোনো বিল বকেয়া নেই। ক্যাম্পের অভ্যন্তরে হওয়ায় সিআইসি তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিনা নোটিশে স্থানীয়দের দুর্ভোগে ফেলেছেন।

গৃহবধূ আয়েশা আক্তার জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় পানির সংকট দেখা দিয়েছে এবং ছোট শিশুদের নিয়ে পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগে পড়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য হেলাল উদ্দিন বলেন, কোনো ব্যক্তি বিদ্যুৎ ব্যবহার করে অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। তবে শত শত বৈধ গ্রাহকের সংযোগ একযোগে বিচ্ছিন্ন করা সাধারণ মানুষের জন্য ভোগান্তির কারণ হয়েছে।

বিক্ষোভ চলাকালে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা ঘটনাস্থলে গিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। উখিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরওয়ার জাহান চৌধুরী ক্ষতিগ্রস্তদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন।

এ বিষয়ে কুতুপালং ১ নম্বর ইস্ট ও ওয়েস্ট ক্যাম্পের ক্যাম্প ইনচার্জ (সিআইসি) মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের কাজ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি করেছে এবং বিষয়টি তাদের সিদ্ধান্তের আওতাভুক্ত।

অন্যদিকে উখিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) কায়জার নুরের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

পরে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও জনপ্রতিনিধিদের আশ্বাসে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে আন্দোলনকারীরা অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন। তবে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনর্বহাল না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কাঁটাতারের ভেতরে অবস্থান করলেও লম্বাশিয়া গ্রামের এসব পরিবার দীর্ঘদিন ধরে সেখানে বসবাস করে আসছে। ফলে প্রশাসনিক জটিলতা ও মৌলিক সেবা প্রাপ্তির নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় তাদের। সাম্প্রতিক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার ঘটনায় সেই সংকট আরও তীব্র হয়েছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।