দুবাইয়ে গ্রেপ্তার পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘দুর্নীতি, পাসপোর্ট জালিয়াতিসহ বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে ইন্টারপোলের সহযোগিতায় দুবাই পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তাকে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া চলমান। এটা বাংলাদেশ পুলিশের সাম্প্রতিককালের ইতিহাসে অন্যতম সাফল্য।’
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দোর্দণ্ডপ্রতাপে আইজিপি ও র্যাব মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করা বেনজীর আহমেদের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়ার খবর সামনে আসে রোববার। ওই দিন সংসদে খবরটি জানিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেছিলেন, ‘বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরাতে ৩০ দিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আবেদন করতে হবে। সেই প্রত্যর্পণ আবেদন করার পাশাপাশি অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সেরে দ্রুতই তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।’
পুশইন নিয়ে জোরালো প্রতিবাদ
এদিকে, তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, সাতক্ষীরা, পঞ্চগড়, নীলফামারী, লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও এবং জামালপুর সীমান্তে ভারতীয় বিএসএফের তরফ থেকে ‘১৩১ জন নাগরিককে পুশইনের প্রচেষ্টা করা হয়’। যা বিজিবির দৃঢ় ও প্রতিরোধমূলক অবস্থানের কারণে ব্যর্থ হয়েছে।’
এছাড়া একই সময়ে মিয়ানমার সীমান্তে ৮৯ জনের অনুপ্রবেশ প্রচেষ্টা ব্যর্থ এবং ২১ জন বাংলাদেশি নাগরিকের প্রত্যাবাসন সফলভাবে সম্পন্ন করা হয় বলে জানিয়েছেন উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, ‘গত ৮ থেকে ১১ জুন পর্যন্ত ভারতের নয়াদিল্লিতে ৫৭তম বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ে সীমান্ত সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।’
এ সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পুশইন এবং সীমান্ত হত্যার বিষয়ে দৃঢ় ও জোরালো প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
পাশাপাশি সীমান্তে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, চোরাচালান প্রতিরোধ, সমন্বিত টহল কার্যক্রম জোরদার এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ফলপ্রসূ ও গঠনমূলক আলোচনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাহেদ উর রহমান।