সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে গড়ে ওঠা বন্ধুত্বের সূত্র ধরে প্রেমের টানে সুদূর চীন থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে ছুটে এসেছেন এক যুবক। প্রিয়তমাকে জীবনসঙ্গিনী করতে কেবল দেশ ছেড়েই আসেননি, নিজের ধর্ম পরিবর্তন করে গ্রহণ করেছেন ইসলাম ধর্ম। বর্তমানে দুই পরিবারের সম্মতিতে তাদের বিয়ের প্রস্তুতি চলছে।
ব্যতিক্রমী এই ঘটনাটি ঘটেছে নবীনগর উপজেলার জিনোদপুর ইউনিয়নের কাঁঠালিয়া গ্রামে। ওই গ্রামের মৃত রিয়াজ উদ্দিনের মেয়ে স্বপ্না আক্তারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনে যোগাযোগ ছিল চীনের সিচুয়ান প্রদেশের বাসিন্দা জিয়া ঐলীর। সিচুয়ানের লুজোউ শহরের লুজিয়ান এলাকার এই যুবক পেশায় একজন চাকরীজীবী। স্বপ্নার সঙ্গে নিয়মিত কথোপকথনের একপর্যায়ে তাদের মধ্যে গভীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দীর্ঘদিনের সেই ডিজিটাল সম্পর্ককে বাস্তবে রূপ দিতেই গত সোমবার (১৫ জুন) রাতে ওই যুবক বাংলাদেশে পৌঁছান।
সরাসরি বিমানবন্দর থেকে তিনি নবীনগরের নীলনগর গ্রামে স্বপ্নার মামার বাড়িতে যান। সেখানে স্বপ্নার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার আনুষ্ঠানিক পরিচয় হয়। বিদেশি যুবকের আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং তাকে এক নজর দেখতে উৎসুক জনতা ভিড় জমায়।
স্বপ্নার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ওই তরুণীকে বিয়ের প্রস্তাব দেন জিয়া ঐলী। তার আগ্রহ ও সম্মতিতে মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জজ আদালতে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। ধর্মান্তরিত হওয়ার পর তার নতুন নাম রাখা হয়েছে জাহিদ ইসলাম। এখন ধর্মীয় ও আইনি রীতি মেনে তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া চলছে।
স্বপ্না আক্তার গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তাদের বিয়ে যেকোনো সময় সম্পন্ন হবে। তার পরিবারের সদস্যরাও ভিনদেশি এই জামাতাকে মেনে নিয়েছেন।
এ বিষয়ে নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিবুল ইসলাম জানান, ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি তার জানা নেই। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
সুদূর চীন থেকে এসে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে বাঙালি তরুণীকে বিয়ের এই ঘটনাটি স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। অনেক নেটিজেন এই যুগলকে শুভকামনা জানিয়েছেন।