ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টিকারী ৪ বছর বয়সী শিশু তাবাচ্ছুমকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার কাজ শুরু হয়েছে।
সরকারের বিশেষ নির্দেশনায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করার লক্ষ্যে মাত্র সাড়ে তিন মাসের (১১০ দিন) মাথায় গতকাল মঙ্গলবার আদালত আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেছেন। আজ বুধবার থেকেই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে।
ঝিনাইদহ আদালতের কোর্ট ইন্সপেক্টর মোক্তার হোসেন এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কালীগঞ্জ থানার ওসি জেল্লাল হোসেন গত ২৬ মে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ বিচারক সালেহুজ্জামানের আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেছিলেন।
গতকাল মঙ্গলবার আদালতে সরকার পক্ষে পিপি অ্যাডভোকেট আকিলুল ইসলাম এবং রাষ্ট্র নিযুক্ত আসামির আইনজীবী অ্যাডভোকেট তরিকুল আলমের উপস্থিতিতে শুনানি শেষে বিজ্ঞ আদালত আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে চার্জ গঠন করেন।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন জানান, মামলার একমাত্র আসামি আবু তাহের একটি সিগারেট কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিল। সে উপজেলার ফরাসপুর গ্রামের মৃত শফি উদ্দীনের ছেলে এবং বাদেডিহি গ্রামে নিহত শিশু তাবাচ্ছুমদের বাড়ির পাশেই ভাড়া বাসায় থাকত।
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) সকালে বাদুরগাছা গ্রামের একটি ভাড়া বাড়িতে চিপস ও জুস কিনে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ফুটফুটে শিশু তাবাচ্ছুমকে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে যায় নরপিশাচ আবু তাহের।
এরপর শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়। এ সময় যন্ত্রণায় শিশুটি চিৎকার করতে গেলে খুনি আবু তাহের নিজের লুঙ্গি দিয়ে তার মুখ ও নাক চেপে ধরে। কিছুক্ষণের মধ্যেই দম আটকে নিথর হয়ে পড়ে শিশুটি।
ঘটনা ধামাচাপা দিতে ওই রাতেই লাশটি একটি বস্তায় ভরে পাশের আব্দুল জব্বার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে লুকিয়ে রাখে সে।
ঘটনার পর পরই খুনি পালিয়ে গেলেও পুলিশ তৎপরতা চালিয়ে ওই দিন মধ্যরাতেই কুষ্টিয়া শহরের তার ভাইয়ের ভাড়া বাসা থেকে আবু তাহেরকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে তাবাচ্ছুমকে ধর্ষণ ও নির্মমভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যার কথা অকপটে স্বীকার করে।
নিহত তাবাচ্ছুমের পিতা নজরুল ইসলাম পেশায় একটি দর্জির দোকানের কর্মচারী এবং মাতা হালিমা খাতুন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘ওয়েব ফাউন্ডেশন’-এ চাকরি করেন। একমাত্র কন্যাসন্তানকে হারিয়ে শোকে পাথর এই বাবা-মা একটাই দাবি জানিয়েছেন, হত্যাকারী আবু তাহেরের যেন দ্রুততম সময়ে ফাঁসি কার্যকর করা হয়।