সরকারি হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতাকর্মী দিয়ে চলছে ল্যাবের টেস্ট, তদন্তে কর্তৃপক্ষ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দিয়ে ল্যাবের বিভিন্ন পরীক্ষা করানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে প্যাথলজি বিভাগে টেকনোলজিস্টদের বিরুদ্ধে। এতে রোগ নির্ণয়ের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকেরা। অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

অন্যদিকে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তরা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের প্রতিদিন প্যাথলজি বিভাগে শতাধিক রোগীর রক্ত বা ইউরিনসহ অন্যান্য নমুনার সিবিসি, আরবিসি, ক্রিয়েটিনিন, এসজিপিটি, বিলিরুবিন, সিআরপি, উইডাল, ভিডিআরএল, এইচবিএসএজি-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা করাতে আসেন। সরকারি হাসপাতালে স্বল্প খরচে এসব পরীক্ষা হওয়ায় রোগীদের চাপও থাকে বেশি।

অভিযোগ উঠেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের প্যাথলজিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দিয়ে ল্যাবের পরীক্ষার মেশিন পরিচালনার কাজ করানো হচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার (১৭ জুন) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে। যিনি প্যাথলজিতে বিভাগের একটি মেশিনে বসে কাজ করছিলেন। সঙ্গে ছিলেন ল্যাব ইনচার্জ রেজাউল করিম।

এসময় পরিচ্ছন্নতাকর্মী জুবায়ের বলেন, আমাকে সিবিসি বা অন্য পরীক্ষার কাজ টেস্ট মেশিনে করতে বলা হয়। আমি জানিয়েছি, আমি করতে পারি না। তারপরও ইনচার্জের নির্দেশে পরীক্ষার কাজ করতে হচ্ছে। 

অন্য এক নারী পরিচ্ছন্নতাকর্মী শিউলি বলেন, আমি ল্যাবে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতাম। পরে আমাকে ল্যাবের পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ করতে বলা হলে আমি আপত্তি জানাই। এরপর আমাকে হাসপাতালের ওয়ার্ডে যেতে বলা হয়। আরেকজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী নাম না জানানো শর্তে বলেছেন, ল্যাবে ইউরিনসহ বেশ কিছু পরীক্ষা না করে রেজাল্ট কম্পিউটারে প্রিন্ট করে রোগীদের হাতে দিয়ে দেওয়া হয়।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্যাথলজি বিভাগের ইনচার্জ রেজাউল করিম। তিনি দাবি করেন, ল্যাবের পরীক্ষার কাজ মেডিকেল টেকনোলজিস্টরাই করেন। পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের দিয়ে শুধুমাত্র পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, ধোয়া-মোছা, টেস্ট টিউব ধোয়া এবং রিপোর্ট সরবরাহের কাজ করানো হয়। মেডিকেল টেকনোলজিস্ট দিয়েই পরীক্ষা নিরীক্ষা করানো হয়। পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের দিয়ে কোনো ল্যাব টেস্ট করানো হয় না।

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আহ্বায়ক সিনিয়র আইনজীবী আবদুন নুর বলেন, ল্যাব পরীক্ষার মতো স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ কাজ অবশ্যই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের মাধ্যমেই পরিচালিত হওয়া উচিত। তাদের পরিবর্তে যদি ডেইলি বেসিকের লোকজন দিয়ে ল্যাবের পরীক্ষা নিরীক্ষা করালে রিপোর্টের নির্ভুলতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিবে। এতে রোগীদের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এর ফলে রোগীরা ভুল চিকিৎসার শিকার হতে পারেন। তাই বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. রতন কুমার ঢালী বলেন, প্যাথলজি, কেমিক্যাল বা বায়োকেমিস্ট্রির মতো কাজ ক্লিনার দিয়ে করানোর কোনো সুযোগ নেই। ল্যাব যে নতুন লোক আসছে তাদের কাজ নিয়েও অসন্তুষ্ট আছে। তাদের বিষয়ে অনেকে অভিযোগ দিচ্ছেন। মেডিকেল টেকনোলজিস্ট শোয়েব আহম্মেদকে শোকজ করা হয়েছে। তদন্ত চলছে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।