পাবনা ইমাম গাযযালী স্কুল অ্যান্ড কলেজে বেতন ও পরীক্ষার ফি বৃদ্ধির ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বেতন ও পরীক্ষার ফি কমাতে বলায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ‘ভিখারি’ বলায় এই ঘটনার সূত্রপাত বলে দাবি করেছেন শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা অধ্যক্ষের অসদাচরণ, ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রতিবাদে এবং অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।
বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে পাবনা পৌর এলাকার অনন্ত বাজার এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির সামনে ঢাকা-পাবনা সড়কে এই কর্মসূচি পালন করেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটিতে বেতন ও পরীক্ষার ফি বাড়ানোসহ, নানা অনুষ্ঠানের নামে অযাচিত চাঁদা আদায় করা হয়। গত বুধবার বেতন ও পরীক্ষার ফি কমানোর জন্য অধ্যক্ষ সুরাইয়া সুলতানার সঙ্গে কথা বলার এক পর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ‘ভিখারি’ ডাকেন। এই ঘটনার পর দুপুরে অধ্যক্ষ সুরাইয়া সুলতানার পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। একপর্যায়ে তারা ঢাকা-পাবনা সড়কে অবস্থান নেন।
বিক্ষোভ চলাকালে একাধিক অভিভাবক বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই অধ্যক্ষ সুরাইয়া সুলতানার উগ্র মেজাজ, একক কর্তৃত্ব আর বদমেজাজের কথা জেনে আসছি। কিন্তু আজ যখন মেয়েদের ভিখারি বলেছে, আমাদের ভিখারি বলেছে তখন এটা মেনে নেওয়া যায় না৷ আমরা তার ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একইসঙ্গে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ধরে রাখার স্বার্থে অধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবি করছি।
তবে অধ্যক্ষ সুরাইয়া সুলতানা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভিখারি বলার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, কেন তারা বিক্ষোভ করছে তা জানি না। তাদের কোনো দাবি দাওয়া থাকলে আমাকে বলুক। আমি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বসে সমাধানের চেষ্টা করবো।
পাবনা সদর ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট এবং বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে শিক্ষার্থীদের সড়ক থেকে ক্যাম্পাসে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়।