যুক্তরাজ্যের জলসীমার কাছাকাছি ইংলিশ চ্যানেলে একটি ব্রিটিশ পতাকাবাহী ইয়টকে লক্ষ্য করে সতর্কতামূলক গোলাবর্ষণ করেছে রাশিয়ার একটি যুদ্ধজাহাজ। গত মঙ্গলবার ঘটা এই ঘটনাকে ‘গভীর উদ্বেগজনক’ ও ‘বেপরোয়া’ আচরণ বলে আখ্যা দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। তবে এ ঘটনার সঙ্গে সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের তরফ থেকে রাশিয়ার ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা তেলবাহী ট্যাঙ্কার জব্দের কোনো সম্পর্ক নেই বলে স্পষ্ট করেছে ব্রিটিশ সরকার।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বুধবারের (১৭ জুন) এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যের আইল অফ উইট থেকে ২০ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণে আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই ঘটনা ঘটে। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় উভয়ই গোলাবর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট বর্ণনায় রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, ‘অ্যাডমিরাল গ্রিগোরোভিচ’ নামের তাদের যুদ্ধজাহাজটির সঙ্গে এক ব্রিটিশ দম্পতিকে বহনকারী ‘ব্রাইট ফিউচার’ নামের ইয়টটির সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। রুশ নাবিকরা ইয়টটির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়াতেই কেবল সতর্কতামূলক গুলি ছোড়া হয়। ইয়টটিকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি বলেও দাবি করেছে মস্কো।
তবে রুশ সামরিক বাহিনীর এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন ইয়টে থাকা ওই দম্পতি। তারা জানিয়েছেন, তাদের নৌযানটি কোনোভাবেই যুদ্ধজাহাজটির সঙ্গে সংঘর্ষের পথে ছিল না। রাশিয়ার এই দাবিকে তারা ‘চিরাচরিত মিথ্যাচার’ বলে অভিহিত করেছেন।
এদিকে, যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই গোলাবর্ষণকে একটি ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। গত রোববার যুক্তরাজ্যের হাতে রাশিয়ার একটি ট্যাঙ্কার জব্দের জেরে এই ঘটনা ঘটেছে কি না—এমন জল্পনা নাকচ করে দিয়ে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুটি ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র নেই।
ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, ইয়টের এই ঘটনাটি নতুন কোনো রহস্যজনক বিষয়ের ইঙ্গিত দেয় না। তবে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ইউক্রেন যুদ্ধ এখন পঞ্চম বছরে পদার্পণ করেছে এবং এই সময়ে পুরো ইউরোপজুড়ে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট আগ্রাসন সবার সামনে স্পষ্ট।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, নিয়ম অনুযায়ী ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করার সময় রুশ যুদ্ধজাহাজগুলোর ওপর ব্রিটিশ নৌবাহিনী কড়া নজরদারি বজায় রাখে। এই ঘটনার সময়ও ব্রিটিশ নৌবাহিনীর জাহাজ ‘এইচএমএস মার্সি’ রুশ যুদ্ধজাহাজ ‘অ্যাডমিরাল গ্রিগোরোভিচকে’ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছিল।