আমেরিকা আরও ২৫০ বছর টিকে থাকবে কি না, সন্দেহ ৩৮ শতাংশ মার্কিনির

আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্র তার স্বাধীনতার আড়াইশ বছর পূর্তি উদযাপন করতে যাচ্ছে। কিন্তু এই বড় মাইলফলকের ঠিক আগেই এক জরিপে উঠে এসেছে দেশটির ভবিষ্যৎ নিয়ে মার্কিনিদের গভীর সংশয়।

বুধবার (১৭ জুন) রয়টার্সে প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, অংশগ্রহণকারীদের ৩৮ শতাংশ মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র আগামী ২৫০ বছরেও বর্তমান আকারে একক রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকবে না। এর মধ্যে ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের ৪০ শতাংশ এবং রিপাবলিকানদের ২৬ শতাংশ এমন মতামত দিয়েছেন। অন্যদিকে ৬২ শতাংশ মার্কিনি এখনও বিশ্বাস করেন, দেশটি দীর্ঘদিন ধরে টিকে থাকবে। রয়টার্স ও ইপসোসের যৌথ জরিপে এ চিত্র দেখা গেছে। 

জরিপে আরও উঠে এসেছে যে, দুই-তৃতীয়াংশ মার্কিনি মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্র এখন ব্যর্থতার ঝুঁকিতে রয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে এই উদ্বেগের হার ৮৫ শতাংশ, আর রিপাবলিকানদের মধ্যে ৫০ শতাংশ।

গত বছর আগস্টে একই ধরনের জরিপে গণতন্ত্র নিয়ে উদ্বেগ ছিল ৫৭ শতাংশের। এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৭ শতাংশে। বিশেষ করে রিপাবলিকানদের মধ্যে এই উদ্বেগ বেশ খানিকটা বেড়েছে। এছাড়া ৭৭ শতাংশ উত্তরদাতা আশঙ্কা করছেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে রাজনৈতিক সহিংসতা আরও বাড়বে।

জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের সেরা দেশ হিসেবে দেখার প্রবণতাও কমেছে। বর্তমানে মাত্র ৩০ শতাংশ মার্কিনি এমনটা মনে করেন, যা ২০১৭ সালের ৩৮ শতাংশ থেকে কম। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে এই হার ২৬ শতাংশ থেকে নেমে এসেছে মাত্র ১১ শতাংশে। তবে রিপাবলিকানদের মধ্যে এখনও প্রায় ৬০ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ দেশ বলে মনে করেন।

স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানগুলো নিয়েও অধিকাংশ মার্কিনির অসন্তোষ রয়েছে। তাদের অনেকেই মনে করেন, এসব অনুষ্ঠান অতিরিক্ত রাজনৈতিক রঙে রাঙানো হয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ এবং রিপাবলিকানদের অর্ধেকেরও বেশি এই মত পোষণ করেন।

উদযাপনের ধরনেও দুই দলের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য দেখা গেছে। রিপাবলিকানদের ৫২ শতাংশ স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় পতাকার রঙের পোশাক পরার পরিকল্পনা করেছেন, যেখানে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে এই হার মাত্র ২০ শতাংশ। আতশবাজি দেখার আগ্রহও রিপাবলিকানদের মধ্যে অনেক বেশি।

অনলাইনে পরিচালিত এই জরিপে যুক্তরাষ্ট্রের ১,৫৩৭ জন প্রাপ্তবয়স্ক অংশ নিয়েছেন।

এই জরিপের ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান রাজনৈতিক বিভাজন ও জনমনে ক্রমবর্ধমান হতাশার একটি স্পষ্ট প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।