বিশ্বজুড়ে রাষ্ট্রহীন মানুষের সংকট আরও গভীর হচ্ছে। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের ‘গ্লোবাল ট্রেন্ডস’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের মোট রাষ্ট্রহীন জনগোষ্ঠীর প্রায় ৪১ শতাংশই রোহিঙ্গা। মিয়ানমারে দীর্ঘদিনের নিপীড়ন, সহিংসতা ও বৈষম্যের কারণে বাস্তুচ্যুত এই জনগোষ্ঠীর বড় অংশ বর্তমানে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে শরণার্থী হিসেবে বসবাস করছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে আনুমানিক ৪৫ লাখ মানুষ রাষ্ট্রহীন অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৮ লাখ রোহিঙ্গা, যা মোট রাষ্ট্রহীন জনগোষ্ঠীর ৪১ শতাংশ। এসব রোহিঙ্গার মধ্যে প্রায় ১২ লাখ বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন।
ইউএনএইচসিআর বলছে, সবচেয়ে বেশি রাষ্ট্রহীন মানুষের বসবাস রয়েছে এমন দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। দেশে অবস্থানরত প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার কোনো স্বীকৃত নাগরিকত্ব নেই।
প্রতিবেদনে রোহিঙ্গা সংকটকে বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী শরণার্থী সংকট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কোনো স্থায়ী সমাধান বা নিরাপদ প্রত্যাবাসনের সুযোগ ছাড়া পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে তারা শরণার্থী জীবন কাটাচ্ছেন। আন্তর্জাতিক সংজ্ঞা অনুযায়ী, এ ধরনের পরিস্থিতিকে দীর্ঘস্থায়ী শরণার্থী সংকট হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এতে আরও বলা হয়, বিশ্বব্যাপী প্রতি ১০ জন শরণার্থীর মধ্যে প্রায় ৭ জন দীর্ঘস্থায়ী সংকটের মধ্যে রয়েছেন। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারাও এর অন্যতম বড় উদাহরণ।
মিয়ানমার এখনো জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষের অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে রয়েছে। দেশটির চলমান সংঘাত ও অস্থিরতার কারণে শুধু ২০২৫ সালেই নতুন করে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৪০০ মানুষ দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছেন। তাদের একটি বড় অংশ বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।
ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, বিশ্বব্যাপী বাস্তুচ্যুত রাষ্ট্রহীন মানুষের বড় অংশই রোহিঙ্গা, যারা মিয়ানমারের ভেতরে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত অথবা প্রতিবেশী দেশগুলোতে শরণার্থী হিসেবে বসবাস করছেন।