বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় মেঘনার শাখা ফুলদী নদীতে সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয়রা। দীর্ঘ ৫ দশকের বেশি সময় ধরে চলা এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০০২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন যোগাযোগ মন্ত্রী নাজমুল হুদা এই সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। তবে ২৪ বছর পেরিয়ে গেলেও সেতু নির্মাণের কাজ এখনো শুরু হয়নি।
ভৌগোলিক কারণে ফুলদী নদী গজারিয়া উপজেলাকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছে। নদীর এক পাড়ে রসুলপুর এলাকায় রয়েছে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কার্যালয়, সাবরেজিস্ট্রার অফিসসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, সরকারি কলেজ, সরকারি হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস, দুইটি আলিম মাদ্রাসা, দুটি আলু সংরক্ষণের হিমাগার এবং সরকারি খাদ্যগুদাম।
অন্যদিকে, নদীর পশ্চিম পাড়ে সোনালী মার্কেট স্থানে রয়েছে সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়, উপজেলা পোস্ট অফিস, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, লঞ্চঘাট, জেলা সদরে যাওয়ার ট্রলারঘাট এবং বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ডক ইয়ার্ড বেইজ স্টেশন। এই এলাকায় স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার প্রায় সহস্রাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। পারাপারের জন্য সবার একমাত্র ভরসা ইঞ্জিনচালিত খেয়া নৌকা।
নদী পারাপারের সময় কথা হয় স্থানীয় সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. রাসেলের সঙ্গে। সে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রতিদিন আমাদের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় পার হতে হয়। অনেক সময় খেয়া ঘাটে এসে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে গিয়ে ক্লাসের সময় পার হয়ে যায়। ঝড়-বৃষ্টির দিনে তো নৌকায় উঠতে ভয় করে। একটা সেতুর অভাবে আমাদের পড়াশোনা আর যাতায়াত চরম ব্যাহত হচ্ছে।
রসুলপুর এলাকার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী আলহাজ করিম মিয়া বলেন, দেশ স্বাধীনের পর থেকে আমরা সেতুর দাবি জানাচ্ছি। ২০০২ সালে যখন ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলো, ভেবেছিলাম দুঃখ ঘুচবে। কিন্তু ২৪ বছরেও সেতুর একটা ইটও গাঁথা হলো না।
তবে স্থানীয়দের মনে কিছুটা আশার আলো জাগিয়েছে রেল মন্ত্রণালয় এবং সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদের সেতু নির্মাণের স্থান পরিদর্শন। এ সময় মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ গণমাধ্যমকে বলেন, মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন আমাদেরকে এখানে নিয়ে এসেছেন, তিনি জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে চান। আমরাও চাই তাকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতে। বাস্তবতার আলোকে সবকিছু যাচাই-বাছাই করা হবে এবং এখানে ফান্ডিংয়ের ব্যাপার আছে। গজারিয়া উপজেলার ফুলদী নদীর ওপর সেতু নির্মাণে সরকারের আন্তরিকতার কমতি নেই। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে চেষ্টা করব।