নিউইয়র্ক টাইমসের বিশ্লেষণ

ট্রাম্প কোন চাপে বাধ্য হয়ে ইরানের সঙ্গে চুক্তি করলেন

মাত্র ১৫ সপ্তাহ আগেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান ইস্যুতে একেবারে দৃঢ় অবস্থানে ছিলেন। তিনি স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছিলেন, নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ ছাড়া ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি নয়। কিন্তু বুধবার (১৭ জুন) যখন যুদ্ধবিরতির সমঝোতা স্মারকের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হলো, তখন দেখা গেল এটি কোনো আত্মসমর্পণের দলিল নয় বরং ইরানের জন্য বেশ কিছু সুবিধাজনক ব্যবস্থা।

তেহরান ফিরে পেয়েছে তেল রপ্তানির বড় সুযোগ। শত শত কোটি ডলারের আয়ের পথ খুলে যাওয়ায় সংকটাপন্ন ইরানি সরকারের ওপর চাপ অনেকাংশে কমবে। পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস করা এবং সরকার পতনের যে লক্ষ্য ট্রাম্প শুরুতে ঘোষণা করেছিলেন, তার কোনোটিই পূরণ হয়নি। বরং ইরান যুদ্ধক্ষেত্র থেকে টিকে থেকে উদযাপনযোগ্য অবস্থান নিয়ে বেরিয়ে এসেছে।

ট্রাম্প এখন বলছেন, এই চুক্তির মাধ্যমে আগামী ১৫-২০ বছর ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে থাকবে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, ক্ষমতা ও দর কষাকষির ওপর এত গুরুত্ব দেয়া একজন প্রেসিডেন্টের পক্ষে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া রীতিমতো বিস্ময়কর। সমঝোতায় হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ভবিষ্যতে আলোচনার ইঙ্গিতও রয়েছে, যা ইরানের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

চুক্তির আওতায় ইরানের জব্দকৃত সম্পদ ফেরত দেওয়ার পথও খুলছে। ট্রাম্প বলছেন, এটা শুধু ভালো আচরণের বিনিময়ে। কিন্তু সমালোচকরা বলছেন, এটি অনেকটাই সেই ধরনের ছাড় যা ২০১৫ সালে বারাক ওবামা দিয়েছিলেন, যে চুক্তির তীব্র বিরোধিতা করে ট্রাম্প নিজেই ক্ষমতায় এসেছিলেন।

রিপাবলিকান দলের কট্টরপন্থী অংশ এবং ইসরায়েলের চরম ডানপন্থী সরকার ইতিমধ্যে এই চুক্তির বিরোধিতা শুরু করেছে। তারা মনে করছে, এই যুদ্ধবিরতি হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে তাদের অভিযানকে ব্যাহত করবে।

ট্রাম্প নিজেই সাংবাদিকদের কাছে স্বীকার করেছেন, তিনি চাননি ইতিহাসে তাঁকে হার্বার্ট হুভারের মতো দেখা হোক। যার আমলে মহামন্দা শুরু হয়েছিল। যুদ্ধ চলতে থাকলে তেলের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঘটতে পারত বলে তিনি আশঙ্কা করছিলেন। ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে হামলা চালিয়ে এই চাপ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছিল।

ট্রাম্প ইরানকে উত্তর কোরিয়ার পথ অনুসরণ করতে না দেয়ার দাবি করলেও, বাস্তবে পারমাণবিক ইস্যুতে দীর্ঘ আলোচনার পথ খুলে দিয়েছেন। আলোচনা ৬০ দিনের বেশি চলতে পারে বলেও তিনি স্বীকার করেছেন।

এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে, প্রাণ গেছে ১৩ জন মার্কিন সেনা ও তিন হাজারের বেশি ইরানির। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ইরানের শাসনব্যবস্থা দুর্বল না হয়ে বরং আরও শক্তিশালী অবস্থানে আসার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। ট্রাম্প কতটা বড় বিজয় দাবি করতে পারবেন, তা এখনই স্পষ্ট নয়।