যমুনার ভাঙনে বিলীন স্কুল, সড়কের পাশে টিনশেডে চলছে পাঠদান

বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার হাট শেরপুর ইউনিয়নের শেরপুর গ্রামে যমুনা নদীর ভাঙনে ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। গত এক মাসে ভাঙনে দুই শতাধিক বাড়িঘর, পাট ও মরিচের আবাদসহ তিন শতাধিক বিঘা জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাঙনের তীব্রতায় ১৫ দিন আগে চকরতিনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী নয়াপাড়া ও করমজাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও এখন হুমকির মুখে রয়েছে।

বর্তমানে চকরতিনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭৩ জন শিক্ষার্থীকে একটি সড়কের ওপর টিনের ছাপড়া তুলে সেখানে পাঠদান করানো হচ্ছে।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জিন্নাহ আলম বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত কষ্টের মধ্যে পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।’

স্থানীয় বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি সদস্য বকুল মিয়া জানান, গত কয়েক বছরে নদীভাঙনের কারণে চকরতিনাথ, করমজাপাড়া, ধনেরপাড়া, কর্নিবাড়ি ও শেমুলবাড়ি গ্রামের প্রায় আড়াই হাজার পরিবার অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। শেরপুর গ্রাম বিলীন হলে মানুষের বসবাসের আর কোনো জায়গা থাকবে না বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

হাট শেরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান আলো বলেন, ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহায়তার জন্য তালিকা করে প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসে পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মাহতাবুর রহমান জানান, নদীভাঙনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয়গুলোর বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বলেন, ‘শেরপুর এলাকায় ভাঙনের পরিধি বড়। এখানে ছোট পরিসরে কাজ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। তাই একটি পূর্ণাঙ্গ প্রকল্প গ্রহণ প্রয়োজন। সে লক্ষ্যে একটি কারিগরি কমিটি গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে।’