শিশুর জায়হান হত্যার ঘটনায় চট্টগ্রামে অভিযুক্তদের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর

চট্টগ্রামের পটিয়ায় নির্মমভাবে খুন হওয়া শিশু জায়হান (৭) হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার (১৯ জুন) দিবাগত রাতে পটিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ গোবিন্দারখীল পূর্ব পাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। তবে এই হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় কারা জড়িত তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পটিয়া পৌরসভার দক্ষিণ গোবিন্দারখীল গ্রামের মো. শাহজাহানের শিশু পুত্র জায়হান গত মঙ্গলবার নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ বা অপহরণের শিকার হয়। নিখোঁজের পর অপহৃত শিশু জায়হানের ঘরের শয়নকক্ষের বিছানায় একটি হাতে লেখা চিরকুট বা চিঠি পাওয়া যায়।

ওই চিরকুটে লেখা ছিল— ‘তোর ছেলে আমাদের কাছে আছে, ছেলেকে পেতে চাইলে যেটা বলছি সেটা শুন... আধা ঘণ্টার ভেতর ৩ লাখ টাকা আর তোর ফ্যামিলির যেকোনো একজনের মোবাইল আনলক করে একটা ব্যাগে করে তোর বাড়ির সামনের রাস্তার পাশে ভাঙা দোকানের ভেতর রেখে দিবি।’

এই চিরকুটের সূত্র ধরে তদন্তে নামে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও পটিয়া থানা পুলিশ। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর গত বৃহস্পতিবার ভোরে নিখোঁজ জায়হানের প্রতিবেশী সাইফুল ইসলামের ঘরের পেছনের একটি ময়লার ভাগাড় থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। 

পুলিশ জানায়, শিশু জায়হানকে হাতুড়ি দিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবেশী সাদিয়া আকতার নিহা (১৯), তার বাবা (৪৮) এবং মা শাহানুর আকতারকে (৩৮) গ্রেপ্তার করে।

এদিকে, শিশু জায়হানের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধারের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এর জের ধরেই শুক্রবার রাতে অভিযুক্তদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

পটিয়া থানার ওসি জিয়াউল হক জানান, শিশু জায়হান হত্যার আসামিদের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়েছে। এই আবেদন গ্রহণ করলে রিমান্ডে আনা হবে। তবে আসামিদের ঘরে কারা হামলা করেছে তা তিনি জানেন না। ভাঙচুরের খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং এ সংক্রান্তে থানায় একটি পুলিশের পক্ষ থেকে জিডি করা হয়েছে।