চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় বালি উত্তোলন নিয়ে অডিও ফাঁসের ঘটনায় এবার সোচ্চার হয়েছে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াত। এ ঘটনায় দলটির মনোনয়নে নির্বাচিত সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর নিরাপত্তা দাবি করা হয়েছে। শনিবার (২০ জুন) দিবাগত রাতে এ নিয়ে গণমাধ্যমে বিবৃতি পাঠানো হয়।
এর আগে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অডিও ছড়িয়ে পড়েছে। এতে লোহাগাড়া উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন এবং এ সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেনের কথা শোনা যায়। যেখানে একপ্রান্তে শাহজাহান চৌধুরীর পিএস আরমান এবং অপর প্রান্তে লোহাগাড়ার উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাসিন্দা তারেকুল হক কথা বলেন। কথোপকথনের একপর্যায়ে তারেকুল লোহাগাড়ার এমপি আরমান বলে দাবি করেন এবং লোহাগাড়ায় শাহজাহান চৌধুরী গেলে পায়ে গুলি করার হুমকি দেন।
কথোপকথনের একপর্যায়ে পিএস আরমানকে বলতে শোনা যায়, ‘সার্কেলকে (সাতকানিয়া লোহাগাড়া পুলিশের সার্কেল অফিসার) টাকা দিছিলাম মাত্র একবার। আপনারা আমাকে টাকা দিছেন কত তা হিসেব করে দেখেন না। আপনাদের কাছে তো হিসাব আছে। মোটামুটি এখন ইউএনওর সঙ্গে পজিটিভলি সেটেলমেন্ট হয়েছে।’
অপরদিকে তারিকুলকে বলতে শোনা যায়, ‘বাদশা খালেদের মতো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে থেকে যাব?’ এমপি এলে আগে এমপির পায়ে একটা দিব। মেরে বলব যে... এমপিকে বলতে হবে, এখানে কেন এলো সেটা। এখানে এমপি হচ্ছেন আরমান সাহেব (শাহাজাহান চৌধুরীর পিএস আরমান)। কেন আসবে এমপি এখানে? এমপিকে লোহাগাড়ায় আসতে নিষেধ করবেন। আমরা চিনি এমপি আরমান সাহেব।’
এর পরিপ্রেক্ষিতে দক্ষিণ জেলা জামায়াতের মিডিয়া ও প্রচার সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু নাছেরের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, শাহজাহান চৌধুরীকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ঘটনার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। বিষয়টি জনমনে নানা ধরনের আলোচনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও জনসম্পৃক্ত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে ঘিরে এমন খবর প্রকাশিত হওয়ায় তার শুভানুধ্যায়ী, রাজনৈতিক সহকর্মী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক সহাবস্থান বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।
নেতারা শাহজাহান চৌধুরী এমপির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, প্রচারিত ঘটনার সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় তদন্তের মাধ্যমে জনমনের উদ্বেগ দূর করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
তারা আশা প্রকাশ করেন, দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানসমূহ দ্রুত ও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে আস্থা বজায় রাখতে এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।